তৃণমূল ভাঙনের পর শতাব্দীর বাড়িতে চা-চক্র: শুভেন্দু সহ বিদ্রোহী সাংসদরা উপস্থিত, মেনুতে বিশেষ পদ

দিল্লিতে তৃণমূল ভাঙনের পর শতাব্দী রায়ের বাসভবনে চা-চক্র। শুভেন্দু অধিকারী সহ বিদ্রোহী সাংসদদের উপস্থিতি, মেনুতে বিশেষ স্ন্যাক্স। কালীঘাট-ক্যামাক স্ট্রিটের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ জয়ের’ উদযাপন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৮ জুন ২০২৬ঃ সোমবার দিনভর দিল্লির রাজনৈতিক মহলে যে টানটান উত্তেজনা ও জটিল সমীকরণ দেখা গিয়েছিল, তার অবসান ঘটল বীরভূমের চারবারের তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ের দিল্লির বাসভবনে এক সান্ধ্য চা-চক্রের মাধ্যমে। লোকসভার স্পিকারের কাছে নতুন ‘তৃণমূল ব্লক’ বা পৃথক গোষ্ঠী গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পর, বিদ্রোহী সাংসদদের এই ঘরোয়া আড্ডাই এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। নয়াদিল্লির রাজনৈতিক সূত্রে খবর, এই চা-চক্রে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে দীর্ঘ রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর রফাসূত্র মেলার আনন্দেই এই আয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।শুভেন্দু ছাড়াও নতুন ব্লকের মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, বাপি হালদার, পার্থ ভৌমিক এবং জুন মালিয়ারাও এই আড্ডায় যোগ দেন।

শতাব্দী রায়ের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গেছে, ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়ি থেকে ফিরেই সাংসদ তাঁর বাসভবনে সন্ধ্যার এই চা-চক্রের প্রস্তুতি শুরু করেন। অতিথি আপ্যায়নে শতাব্দীর সুনাম সুবিদিত। মেনুতে ছিল ভেজ এবং নন-ভেজ— দু’ধরনের সুস্বাদু স্ন্যাক্স, সঙ্গে ধোঁয়া ওঠা গরম চা। নতুন ব্লকের এক বিদ্রোহী সাংসদের কথায়, “এদিন শুধু চা নয়, মিষ্টি মুখ করানোটা সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক। কালীঘাট আর ক্যামাক স্ট্রিটের (মমতা ও অভিষেক) একাধিপত্যের বিরুদ্ধে এই যে যুদ্ধ জয় হল, তার জন্য একটা ছোটখাটো সেলিব্রেশন তো দরকার ছিল!” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভার ভিতরে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে কোণঠাসা করে সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদকে নিয়ে আলাদা ব্লক তৈরি করাকে এই চা-চক্র এক ঘরোয়া বিজয় উৎসব হিসেবেই দেখছে। সোমবারের এই মেগা পলিটিক্যাল থ্রিলারের ক্লাইম্যাক্স যে শতাব্দীর ড্রয়িং রুমের চায়ের কাপে এসে এভাবে আছড়ে পড়বে, তা সকালেও কেউ আন্দাজ করতে পারেনি।