অগ্রিম বায়না ছাড়াই প্রতিমা গড়েন মালদার প্রদীপ, ঝুঁকি সত্ত্বেও ভরসা শেষবেলার বিক্রি

মালদার প্রতিমাশিল্পী প্রদীপ পাল অগ্রিম বায়না ছাড়াই নিজের টাকায় প্রতিমা তৈরি করেন। শেষবেলায় বিক্রি হবে, এই ভরসাতেই চলে তাঁর শিল্পকর্ম।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৯ অক্টোবর ২০২৬: অগ্রিম বায়না ছাড়াই নিজের ঘরের টাকা খরচ করে প্রতিমা তৈরি করেন মালদার এক প্রতিমাশিল্পী।

পুরাতন মালদা ব্লকের সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নাগেশ্বরপুরের প্রতিমাশিল্পী প্রদীপ পাল গত কয়েক দশক ধরে এই প্রথা মেনেই কাজ করে চলেছেন। তাঁর শিল্পালয়ে বাংলা নববর্ষের দিন থেকে শুরু হয় দেবদেবীর মূর্তি তৈরির কাজ। দুর্গা, কালী, গণেশ, কার্তিক, মনসা, বিশ্বকর্মা সহ নানা প্রতিমা তৈরি হয় এখানে। এ বছর প্রায় ২০টি দুর্গা প্রতিমা তৈরি করেছেন প্রদীপ। এর জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। আট জন দক্ষ কারিগর তাঁর সঙ্গে কাজ করেন, যাঁদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা।

প্রতিমাগুলি শেষ পর্যন্ত বিক্রি হবে কিনা, তার নিশ্চয়তা না থাকলেও ৫৫ বছর বয়সী প্রদীপ এই ঝুঁকি নিয়েই বছরের পর বছর কাজ করে চলেছেন। তাঁর বক্তব্য, “পুজোর মুখে ছবিটা বদলে যায়। রেডিমেড দুর্গা প্রতিমা কিনতে তখন বিভিন্ন পুজো কমিটির কর্মকর্তারা আমার কারখানায় ভিড় করেন। শেষবেলায় সবই বিক্রি হয়ে যায়। এই ভরসাতেই অগ্রিম বায়না ছাড়া সারা বছর ধরে ঠাকুর বানাই।”

ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ শেখেন প্রদীপ। বর্তমানে স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে তাঁর সংসার চলে এই কাজের উপরেই। প্রতিমা তৈরি তাঁর কাছে অনেকটা নেশার মতো, তাই অর্ডার না থাকলেও কাজ থামান না তিনি। এ বছর ২০টি দুর্গা প্রতিমার মধ্যে হাতে গোনা এক-দুটি প্রতিমার জন্য বায়না এসেছে ইংরেজবাজার ও কালিয়াচকের ক্লাব কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। বাকিগুলির বায়না হয়নি এখনও।

মাটির দাম ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ১০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা দামের প্রতিমা তৈরি হয় এখানে। পুরো বিনিয়োগের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে নির্মাতাকে। ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ এবং ফসল বিক্রির টাকা দিয়ে চলছে এই শিল্পকর্ম।

তবুও অগ্রিম বায়না ছাড়াই শিল্পকর্ম চালিয়ে নিয়ে যেতে চান প্রতিমাশিল্পী।