ব্যুরো নিউজ, ৬ অক্টোবর ২০২৬: পুজোর মরসুমে মন চাইছে দূরে কোথাও যেতে, কিন্তু হাতে সময় কম? তাহলে পশ্চিম মেদিনীপুরের নাড়াজোল হতে পারে আপনার একদিনের আদর্শ গন্তব্য।
কলকাতা থেকে মাত্র আড়াই ঘণ্টার সড়কপথে পৌঁছে যাওয়া যায় এই ঐতিহাসিক স্থানে। একদিকে কংসাবতী, অন্যদিকে শিলাবতী নদীর শান্ত পরিবেশ আর প্রাচীন রাজবাড়ির ইতিহাস এখানে মিলেমিশে একাকার।
দুর্গাপূজার এই আনন্দঘন সময়ে কাশফুলের দোলা আর পেঁজা তুলোর মতো মেঘের আনাগোনা মনকে আরও চঞ্চল করে তোলে। এমন দিনে ঘরে বসে না থেকে বেরিয়ে পড়ুন পশ্চিম মেদিনীপুরের এই লুকানো রত্নের সন্ধানে।
নাড়াজোলের প্রধান আকর্ষণ এখানকার প্রায় ছশো বছরের পুরনো রাজবাড়ি। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গেও এই রাজবাড়ির নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। সাধারণত রাজবাড়ির অন্দরমহল দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকলেও, পুজোর সময়ে বিশেষ অনুমতিতে এটি খুলে দেওয়া হয়। ফলে এই সময়ে গেলে রাজপরিবারের ঐতিহ্য ও স্থাপত্য কাছ থেকে দেখার সুযোগ মিলবে।
রাজবাড়ি চত্বরে রয়েছে মহামৃত্যুঞ্জয় শিব মন্দির, সীতারামজিউর মন্দির, গোপালজিউর মন্দির এবং আটচালা দুর্গাদালান, যা স্থাপত্যপ্রেমীদের মুগ্ধ করবে। রাজবাড়ির পাশেই দেখতে পাবেন প্রায় ২০০ বছরের পুরনো রাসমঞ্চ, যার মাথায় রয়েছে ২৫টি চূড়া। এটি এক অনন্য স্থাপত্য নিদর্শন। রথযাত্রার সময় এখান থেকে কাঠের রথ লঙ্কাগড় পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয় এবং আবার ফিরিয়ে আনা হয়। রাসমঞ্চের কাছেই রয়েছে কয়েকটি শিবমন্দির ও রাজপরিবারের সমাধিস্থল, যা ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে।
এরপর গাড়ি নিয়ে চলে যান লঙ্কাগড়ে, পথে পড়বে শিলাবতী নদী। লঙ্কাগড়ে জলহরি ও কয়েকটি প্রাচীন মন্দির ঘুরে একদিনের সফর সম্পূর্ণ করতে পারেন। প্রকৃতি, ইতিহাস ও গ্রামবাংলার অনবদ্য স্বাদ পেতে নাড়াজোল এক অসাধারণ ঠিকানা।







