ব্যুরো নিউজ, ১৯ই মে ২০২৬ঃ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ছত্তীসগড়ের বস্তার থেকে এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করে জানালেন, ভারত এখন সম্পূর্ণ নকশাল মুক্ত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার প্রথম থেকেই জানত যে, দেশ থেকে মাওবাদী আগ্রাসন নির্মূল করতে হলে লড়াইটা বস্তারের জঙ্গলমহলেই লড়তে হবে। আর ঠিক সেই কারণেই ভারতের বুক থেকে নকশালবাদের চূড়ান্ত অবসানের কথা দেশবাসীকে জানাতে ছত্তীসগড়ের এই নামকেই বেছে নেওয়া হল। বস্তারের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক ও জাতীয় মহলে এক বিশেষ বার্তা দিল।
এক সময় যা ছিল চরম ভীতি ও রক্তপাতের প্রতীক, বর্তমান সরকারের সফল রণকৌশলের জেরে আজ সেই অঞ্চলটিই দেশের অন্যতম মস্ত বড় সাফল্যের খতিয়ান হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। বস্তারের দীর্ঘ ও রক্তাক্ত ইতিহাস স্মরণ করিয়ে শাহ বলেন, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের হাত থেকে বাকি ভারতবর্ষ স্বাধীনতা পেলেও, বস্তারের সাধারণ মানুষরা প্রকৃত স্বাধীনতা পান ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের পর। ২০১০ সালের ৬ এপ্রিল সিআরপিএফ বাহিনীর উপর মাওবাদীদের নৃশংস হামলায় ৭৬ জন জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন, যা বস্তারকে আতঙ্ক ও অনগ্রসরতার সমার্থক করে তুলেছিল। বিগত ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে মাওবাদী সন্ত্রাসের করাল গ্রাসে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক প্রগতি সম্পূর্ণ স্তব্ধ ছিল।
২০১৯ সাল থেকেই মোদী সরকার ‘নকশাল মুক্ত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে কোমর বেঁধে ময়দানে নামে। ২০২৩ সালে ছত্তীসগড়ে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাওবাদী বিরোধী অভিযান বহুগুণ তীব্র হয়। বিগত ১০ বছরে ১০ হাজারেরও বেশি সশস্ত্র নকশালপন্থী সরকারের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করে মূল স্রোতে ফিরে এসেছে। এই ঘোষণা বস্তারের মানুষের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা করল।








