Balasore Self Immolation case : ফকির মোহন কলেজে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ,NCW-এর হস্তক্ষেপ, বরখাস্ত বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যক্ষ

Balasore self immolation NCW

Share:

ব্যুরো নিউজ ১৪ জুলাই ২০২৫ : ওড়িশার বালাসোরে এক মর্মান্তিক ঘটনায় জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW) স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বালাসোরের একটি কলেজের ছাত্রী যৌন হয়রানি এবং বিভাগীয় প্রধানের কাছ থেকে একাডেমিক হুমকির সম্মুখীন হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে ছাত্রীটি ৯০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

NCW-এর কড়া পদক্ষেপ

জাতীয় মহিলা কমিশন এই “গভীরভাবে উদ্বেগজনক” ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়ে অবিলম্বে ওড়িশা রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক (DGP)-কে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে। কমিশন আগামী তিন দিনের মধ্যে একটি অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে।NCW-এর চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহটকার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি ডিজিকে একটি নিরপেক্ষ এবং সময়বদ্ধ তদন্ত নিশ্চিত করতে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে এবং ভুক্তভোগী ছাত্রীকে বিনামূল্যে সমস্ত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। কমিশনের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রভাবের আড়ালে নৈরাজ্য ; জানুন রাজনৈতিক মদতপুষ্ট ধর্ষকের চরিত্র ।

ছাত্রীটির আশঙ্কাজনক অবস্থা

জানা গেছে, শনিবার ফকির মোহন কলেজের ২০ বছর বয়সী ওই ছাত্রী তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগের উপর কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। বর্তমানে তিনি ৯০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় ভুবনেশ্বরের এইমস (AIIMS)-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এইমসের নির্বাহী পরিচালক ডঃ আশুতোষ বিশ্বাস জানিয়েছেন, ছাত্রীটির অবস্থা “অত্যন্ত সংকটজনক”।

Murshidabad Law College Ragging : দক্ষিণ কলকাতার পর এবার মুর্শিদাবাদের আইন কলেজে র‍্যাগিং ও মারধরের অভিযোগ ।

সরকারের তদন্ত কমিটি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ

এদিকে, ওড়িশার শিক্ষামন্ত্রী সূর্যবংশী সুরাজ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে রাজ্য সরকার এই ঘটনার তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। সহকারী অধ্যাপক সমীর কুমার সাহুর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হবে। মন্ত্রী বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা, এবং আমরা এটি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে দেখছি। বিভাগীয় প্রধান এবং কলেজের অধ্যক্ষকে ইতিমধ্যেই বরখাস্ত করা হয়েছে, এবং অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।”

এই ঘটনা আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের নিরাপত্তা এবং যৌন হয়রানির অভিযোগের দ্রুত ও কার্যকর তদন্তের গুরুত্বকে সামনে এনেছে।