ব্যুরো নিউজ, ১৯ই মে ২০২৬ঃ কেন্দ্রীয় সরকার সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (CAA) কার্যকর করার প্রক্রিয়ায় আরও কড়াকড়ি আনল। বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ভারতে এসে নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারী ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের এবার নিজেদের দেশের পাসপোর্ট সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জারি করা নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০০৯ সালের নাগরিকত্ব বিধি সংশোধন করেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। সরকারের দাবি, নাগরিকত্ব প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ এবং সুরক্ষিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও আবেদনকারীর কাছে যদি বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের বৈধ অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট থাকে, তবে সেই পাসপোর্টের নম্বর, ইস্যুর তারিখ এবং মেয়াদের বিস্তারিত তথ্য সরকারকে জানাতে হবে। শুধু তাই নয়, আবেদনকারীকে একটি লিখিত ঘোষণাপত্রও জমা দিতে হবে, যেখানে উল্লেখ থাকবে যে ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তিনি নিজের দেশের পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবেন। এই পাসপোর্ট জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৯ সালের নাগরিকত্ব বিধিতে একটি নতুন অনুচ্ছেদ সংযোজন করা হয়েছে, যা মূল বিধিমালার ‘১সি তফসিল’-এর পরে যুক্ত হবে। এই তফসিল মূলত ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে ভারতে চলে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের নাগরিকত্ব পাওয়ার আইনি ভিত্তি তৈরি করেছিল। নতুন সংশোধনের ফলে আবেদনকারীদের পরিচয় যাচাই এবং নথিপত্র পরীক্ষা আরও কঠোরভাবে করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।
উল্লেখ্য, এই আইন পাশ হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, এই আইন ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেওয়ার নীতি অনুসরণ করছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার বারবার দাবি করেছে, প্রতিবেশী তিন দেশে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার সংখ্যালঘুদের মানবিক কারণে আশ্রয় এবং নাগরিকত্ব দেওয়াই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর আবেদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা দুইই আরও জোরদার হবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।








