ফ্লাইদুবাই কাণ্ড: কো-পাইলটের হামলায় খুলিতে চিড়, ১৭০ প্রাণ বাঁচিয়ে কেমন আছেন ক্যাপ্টেন স্মিত?

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে কো-পাইলটের কুঠার হামলায় গুরুতর আহত ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার ১৭০ যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন। মাথার খুলিতে চিড়, কেমন আছেন তিনি?

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৬ অক্টোবর ২০২৬: ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে কো-পাইলটের নৃশংস হামলার মুখেও অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ১৭০ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়েছেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী FZ1073 বিমানটি মাঝ আকাশে ১৮ হাজার ফুট নীচে নেমে যাওয়ার সময় ককপিটে ওমানি কো-পাইলট হামাদ আল-হাম্মামি কুঠার দিয়ে স্মিতের মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় মাথার খুলি ভেঙে গেলেও স্মিত হাল ছাড়েননি। শরীর থেকে গলগল করে রক্ত বেরোচ্ছিল, একের পর এক আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছিলেন তিনি। তবু নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শেষ শক্তিটুকু দিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দেন তিনি, যার ফলে যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ভিতরে ঢুকে কো-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। শেষ পর্যন্ত বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে প্রিন্স সুলতান বিন আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। সূত্রের খবর, স্মিতের মাথায় ‘ডিপ্রেসড স্কাল ফ্র্যাকচার’ হয়েছিল, অর্থাৎ মাথার খুলির একটি অংশ ভেঙে মস্তিষ্কের দিকে ঢুকে যায়। এই ধরনের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর, কারণ ভাঙা হাড় মস্তিষ্কে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সৌদি আরবে জরুরি অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে আবুধাবির একটি মিলিটারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে এবং পরিবারকে তাঁর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভিডিও কলে স্মিতের সঙ্গে কথা বলে তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। হামাদ আল-হাম্মামি জেরায় জানিয়েছেন, গাজায় হামলার প্রতিশোধ নিতে এবং ইজরায়েলের বিমানবন্দরে বিমানটি ৯/১১ স্টাইলে বিধ্বস্ত করার উদ্দেশ্য ছিল তাঁর। ক্যাপ্টেন স্মিতের অদম্য সাহস ও উপস্থিত বুদ্ধির কারণেই একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তাঁর এই বীরত্ব গোটা বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে।