দিল্লির অগ্নিকাণ্ড: আগুনের চেয়েও ভয়ংকর ধোঁয়া, কেন দ্রুত প্রাণ কাড়ে? জানালেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ২১ জনের মৃত্যু। আগুনের শিখার চেয়েও ধোঁয়া কেন দ্রুত প্রাণ কাড়ে? বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যাখ্যা ও সুরক্ষাবিধি জানুন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৫ জুন ২০২৬ঃ দিল্লির এক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ফের একবার এক নির্মম সত্যকে সামনে এনেছে—যে কোনও অগ্নিকাণ্ডে অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু আগুনের শিখায় পুড়ে নয়, বরং ধোঁয়ার কারণে হয়। সম্প্রতি দিল্লির একটি হোটেলে ২১ জনের প্রাণহানির পর শ্বাসরোগ বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছেন। তাঁদের মতে, বদ্ধ ঘরে ধোঁয়া কীভাবে কয়েক মিনিটের মধ্যে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়, তা জানা থাকলে জরুরি অবস্থায় প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতে পারে।

সাধারণত মানুষের ধারণা, অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর প্রধান কারণ আগুনের শিখা বা পুড়ে যাওয়া। কিন্তু বিশ্বজুড়ে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ এবং ফায়ার সেফটি অথরিটির মতে, হোটেল, বাড়ি বা অফিস-এর মতো বদ্ধ পরিবেশে সিংহভাগ মানুষের মৃত্যু হয় বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে, শরীরের চামড়ায় আগুনের আঁচ লাগার অনেক আগেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফায়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (USFA)-এর তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর প্রধান কারণ অক্সিজেনের অভাব এবং বিষাক্ত গ্যাসের বিষক্রিয়া।

দিল্লির শালিমার বাগের ফোর্টিস হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেসপিরেটরি ক্রিটিক্যাল কেয়ারের সিনিয়র ডিরেক্টর ডক্টর বিকাশ মৌর্য ব্যাখ্যা করেছেন, “বদ্ধ জায়গায় আটকে পড়া বেশির ভাগ মানুষ পুড়ে মারা যান না। তাঁরা মারা যান কারণ তাঁরা শ্বাস নিতে পারেন না।” ডক্টর মৌর্যের মতে, মূলত দুটি কারণে ধোঁয়া শরীরে দ্রুত মৃত্যু ডেকে আনে। প্রথমত, অক্সিজেনের দ্রুত ঘাটতি ও অচেতনতা। আগুন জ্বলতে প্রচুর অক্সিজেন গ্রাস করে, ফলে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ ১০-১২%-এর নিচে নেমে গেলে মস্তিষ্ক প্রয়োজনীয় অক্সিজেন থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে মানুষ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। দ্বিতীয়ত, বিষাক্ত গ্যাসের বিষক্রিয়া। আধুনিক সিন্থেটিক উপাদান পুড়ে কার্বন মনোক্সাইডের মতো প্রাণঘাতী গ্যাস তৈরি হয়, যা রক্তের হিমোগ্লোবিনের সাথে মিশে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করে দেয় এবং কোষগুলোর শ্বাসরোধ ঘটায়। এই গ্যাসগুলি আগুনের শিখার চেয়েও দ্রুত প্রাণ কেড়ে নিতে পারে।