ব্যুরো নিউজ, ৭ জুন ২০২৬ঃ আন্তর্জাতিক মহলে ভারতীয় খাদ্যপণ্যের গুণমান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশের খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ মে থেকে ২০২৫ সালের ৩০ মে পর্যন্ত ভারতের ৪৫০টিরও বেশি খাদ্যপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
অভিযোগ, এই পণ্যগুলির অনেকগুলিতেই অতিরিক্ত মাত্রায় ক্ষতিকর কীটনাশক, ভারী ধাতু এবং রোগসৃষ্টিকারী জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। এর ফলে ইউরোপের বাজারে ভারতীয় খাদ্যপণ্যের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বিদেশে রপ্তানি বন্ধ হলেও দেশের বাজারে একই ধরনের পণ্য বিক্রি হয়ে চলায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
কেন্দ্রীয় সংস্থা ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI)-এর হাতে দেশের খাদ্যপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব থাকলেও, ইউরোপীয় ফুড সেফটি অথরিটির তথ্য FSSAI-এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রিপোর্টে ক্লোরপাইরিফস এবং ইথিলিন অক্সাইডের মতো বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা ক্যানসার ও স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যার কারণ হতে পারে। জননীতি বিশ্লেষক নরসিংহ রেড্ডি ডোন্তি এই ঘটনাগুলিকে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার জবাবদিহিতার ঘাটতি হিসেবে দেখছেন।
তাঁর মতে, দূষণের উৎস খুঁজে বের করা জরুরি। ‘পেস্টিসাইড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক-ইন্ডিয়া’-র প্রতিনিধি ডি দিলীপ কুমার জানিয়েছেন, ক্লোরপাইরিফসের মতো একাধিক বিষাক্ত কীটনাশক নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব অতীতে উঠলেও তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। ইউরোপীয় দেশগুলির এই পদক্ষেপ ভারতের খাদ্য মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে নতুন করে পর্যালোচনার মুখে দাঁড় করিয়েছে। এখন কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর।








