আইএসআই-এর ভারতবিরোধী প্রচারে নতুন কৌশল: বিশ্বজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের ব্যবহার, দাবি গোয়েন্দা সূত্রের

আইএসআই বিশ্বজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের কাজে লাগিয়ে ভারতবিরোধী প্রচারে জোর দিচ্ছে, দাবি গোয়েন্দা সূত্রের। শাহজাদ ভাট্টি এই কৌশলের মূল অনুপ্রেরণা।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২ জুন ২০২৬ঃ ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এখন বিশ্বজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে ভারতবিরোধী প্রচার অভিযানে নতুন করে জোর দিচ্ছে। শাহজাদ ভাট্টি নামক এক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্বের “সাফল্য” এই নতুন কৌশলের মূল অনুপ্রেরণা বলে দাবি করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, শাহজাদ ভাট্টিকে কাজে লাগানো ছিল আইএসআই-এর একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ। তাঁর বিশাল অনলাইন অনুসারী গোষ্ঠী এবং জনমত প্রভাবিত করার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁকে নেটওয়ার্ক বিস্তারের জন্য ব্যবহার করা হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, ভাট্টি শুধু জম্মু-কাশ্মীর, দিল্লি ও উত্তর ভারতে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের জন্য লোক সংগ্রহেই জড়িত ছিলেন না, পাঞ্জাবে খালিস্তানপন্থী আন্দোলনের জন্যও নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আইএসআই এই মডেলকে সফল মনে করে এখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এমন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে, যাঁরা ভারতীয় যুবকদের প্রভাবিত করতে সক্ষম। গোয়েন্দা আধিকারিকদের দাবি, “অপারেশন সিঁদুর”-এর পর ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পাকিস্তান-সমর্থিত সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালায়, যেখানে জ্যোতি মালহোত্রার মতো বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়।

আইএসআই-এর মূল লক্ষ্য হল অনলাইন মাধ্যমে ভারত সরকার, তার নীতি এবং ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভ্রান্তিকর ও নেতিবাচক প্রচার চালানো। পাকিস্তানের ঝেলম, ইসলামাবাদ, লাহোর এবং করাচির ‘ইউনিট ৪১২’-এ এই ধরনের কার্যকলাপ পরিচালনার জন্য বিশেষ কেন্দ্র রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের বক্তব্য, এই নেটওয়ার্কের সদস্যরা মূলত পাকিস্তানপন্থী বা ভারতবিরোধী সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল খুঁজে বের করে অর্থ বা জনপ্রিয়তার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাজে লাগায়। শাহজাদ ভাট্টি দুবাই থেকে ‘৩৩৩’ নামে একটি অনলাইন চ্যানেল চালাতেন, যা ভারতবিরোধী প্রচারের কাজে ব্যবহৃত হত।