ব্যুরো নিউজ, ৯ জুন ২০২৬ঃ মহারাষ্ট্রের বিড় জেলায় এক চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে প্রেমিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিজের স্বামীকেই খুন করার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, নিহত কিরণ সোনাওয়ানে-কে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে এবং পরে ঘটনাটিকে পথ দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনায় কিরণের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা, তাঁর প্রেমিক দশরথ পরদেশী এবং দশরথের বন্ধু ধীরাজ ইয়েদে-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, কিরণ সোনাওয়ানে-র নিথর দেহ একটি স্কুটির পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে এটিকে দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও, পুলিশের সন্দেহ হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পর খুনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তদন্তে উঠে আসে, প্রিয়াঙ্কা এবং দশরথের মধ্যে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। তাঁদের প্রেমের পথে কিরণ বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন, তাই তাঁকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। এই নৃশংস পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দশরথের বন্ধু ধীরাজও সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দশরথ ও ধীরাজ মিলে কিরণকে শ্বাসরোধ করে খুন করে। এরপর প্রমাণ লোপাটের জন্য একটি স্কুটি দিয়ে কিরণের দেহের উপর দিয়ে চালিয়ে দেওয়া হয়, যাতে মনে হয় এটি একটি পথ দুর্ঘটনা। খুনের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর দশরথ তার প্রেমিকা প্রিয়াঙ্কাকে ফোন করে জানায়, ‘প্রোগ্রাম ওকে’। এই ফোন কলটিই পুলিশের হাতে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র তুলে দেয় এবং তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ঘটনার পর থেকেই পুলিশ নিবিড়ভাবে তদন্ত শুরু করে। প্রথমে প্রিয়াঙ্কাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার ভিত্তিতে দশরথ ও ধীরাজকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে।








