ব্যুরো নিউজ, ২৬ মে ২০২৬ঃ মুম্বাইয়ের এক সাধারণ তরুণ শাম কুমাবতের জীবন এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। ইউপিএসসি পরীক্ষায় অসফলতা, ব্যবসায় বড় ক্ষতি এবং ঋণের বোঝায় জর্জরিত হওয়ার মতো একের পর এক ব্যর্থতা তাঁকে দমাতে পারেনি। বরং সেই ব্যর্থতাকেই শক্তি বানিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন “সাফসাফাইওয়ালা” নামে একটি সফল হাউসকিপিং ও হোম ক্লিনিং স্টার্টআপ।
২০২২ সালে শুরু হওয়া এই সংস্থা বর্তমানে বছরে প্রায় দেড় কোটি টাকার ব্যবসা করছে। ঘর পরিষ্কারের মতো সাধারণ পরিষেবাকে সংগঠিত ও পেশাদার স্তরে পৌঁছে দিয়ে শাম এখন মুম্বাইয়ের তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে এক পরিচিত নাম। ২০১৭ সালে স্নাতক হওয়ার পর শাম ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে একটি হোটেলে খণ্ডকালীন হাউসকিপার হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেখানেই পরিচ্ছন্নতা পরিষেবা শিল্পের ভিতরের বাস্তব চিত্র দেখেন এবং এই খাতে পেশাদারিত্ব ও প্রশিক্ষণের অভাব উপলব্ধি করেন। কোভিড-১৯ মহামারীর ধাক্কায় তাঁর প্রথম ক্লিনিং এজেন্সি বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে তিন লক্ষ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েন তিনি। তবে সেই ব্যর্থতা থেকেই নতুন পথ খুঁজে নেন শাম। ২০২২ সালে মুম্বাই ফিরে এসে শুধু ক্লিনিং সার্ভিসকে কেন্দ্র করে নতুন ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন।
তাঁর মতে, বাজারে অধিকাংশ প্ল্যাটফর্ম একসঙ্গে বহু ধরনের পরিষেবা দেওয়ায় মানের সঙ্গে আপস করতে হয়। তাই তিনি শুধু পরিচ্ছন্নতা পরিষেবাতেই বিশেষ জোর দেন। গ্রাহকদের আস্থা অর্জনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার বানান, যেখানে কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং পরিষেবা সংক্রান্ত ভিডিও পোস্ট করা হয়। বর্তমানে সংস্থার প্রায় ৭০ শতাংশ বুকিং অর্গানিক উপায়ে আসে। “সাফসাফাইওয়ালা”-র অন্যতম বড় শক্তি হল তাদের নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যেখানে প্রতিটি সার্ভিস পার্টনারকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
বর্তমানে মুম্বাই, পুনে, থানে এবং দিল্লিতে বাড়ি ডিপ ক্লিনিং, অফিস ও কমার্শিয়াল ক্লিনিংয়ের মতো পরিষেবা দিচ্ছে তারা। যে সংস্থা একসময় মাসে মাত্র ৫ হাজার টাকা আয় করত, সেটিই এখন মাসে ২০ লক্ষ টাকারও বেশি আয় করছে। ২০২৫ সালের মধ্যে সংস্থার বার্ষিক টার্নওভার দেড় কোটি টাকায় পৌঁছেছে। আগামী ২০২৬ সালের দিওয়ালির মধ্যে আরও ১০টি নতুন শহরে পরিষেবা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে শামের। ব্যর্থতা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে সফলতার নতুন ইতিহাস লেখা যায়, শাম কুমাবতের গল্প যেন সেই বাস্তব উদাহরণ।








