ব্যুরো নিউজ, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি পরিবহণে পাকিস্তানের আকাশপথ ব্যবহারে বাধা, কারিগরি ত্রুটির দাবি ইসলামাবাদের। বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম জ্বালানি পরিবহণের জন্য পাকিস্তানের আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি মেলেনি। ইসলামাবাদ এই ঘটনাকে ‘কারিগরি ও পদ্ধতিগত সমস্যা’ বলে উল্লেখ করেছে, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে পারে।
গত ২৪শে সেপ্টেম্বর রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি আসার কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় তা আটকে যায়।
ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তান হাই কমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নিয়মাবলী মেনে চলে এবং সমস্ত অনুরোধ ‘প্রতিষ্ঠিত নিয়মাবলী ও অসামরিক বিমান চলাচল প্রোটোকল’ অনুযায়ী প্রক্রিয়া করে। তাদের মতে, এটি ‘বিমান চলাচলের রুট এবং আকাশপথের অনুমতি সংক্রান্ত কারিগরি ও পদ্ধতিগত ব্যবস্থার’ সঙ্গে সম্পর্কিত, যা মাঝে মাঝে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে বিলম্বিত হতে পারে।
বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, ইউরেনিয়াম পরিবহণ আটকে যাওয়ার কারণ প্রথমে অজানা ছিল। তবে রাশিয়া এখন অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানি পাঠানোর নতুন তারিখ প্রস্তাব করেছে। বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব শেখ মহম্মদ তৌহিদুল ইসলামও জানিয়েছেন, আকাশপথ পরিষ্কার না থাকায় জ্বালানি পাঠানো যায়নি।
রাশিয়ার রোসাটম-এর সহায়তায় পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত হচ্ছে এই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটি বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, যা দুটি VVER-1200 রিয়াক্টর ইউনিটের মাধ্যমে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। এর প্রথম ইউনিটের জ্বালানি ২০২৩ সালের অক্টোবরেই রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে পৌঁছেছিল, যা কড়া নিরাপত্তায় ঢাকা থেকে পাবনার প্ল্যান্টে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনা বাংলাদেশের পারমাণবিক যুগে প্রবেশকে চিহ্নিত করে।








