ব্যুরো নিউজ, ১ জুন ২০২৬ঃ রাশিয়ায় শুরু হয়েছে এক যুগান্তকারী বৈজ্ঞানিক অভিযান, যার নেতৃত্বে স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মানবজীবনের ধারণাকে বদলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ২.৪৭ লক্ষ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগে এই ‘নিউ হেলথ প্রিজারভেশন টেকনোলজি’ প্রকল্পটি শুরু হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ধীর করা, অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সংকট দূর করা এবং মানুষের আয়ু বহুগুণ বাড়িয়ে তোলা।
রুশ প্রশাসনের দাবি, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, জিন থেরাপি, বায়োপ্রিন্টিং, কৃত্রিম অঙ্গ নির্মাণ এবং ক্রায়োথেরাপির মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো হবে এই গবেষণায়। গত এপ্রিল মাসেই রুশ বিজ্ঞান ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী ডেনিস সেকিরিনস্কি জানিয়েছিলেন, বিজ্ঞানীরা এমন জিন থেরাপি নিয়ে কাজ করছেন যা মানবদেহের কোষের বয়স বৃদ্ধির হার কমাতে সক্ষম।
এই প্রকল্পের আওতায় পরীক্ষাগারে মানুষের তরুণাস্থি এবং ইঁদুরের থাইরয়েড গ্রন্থি তৈরিতে সাফল্য এসেছে। আগামী লক্ষ্য হল ২০৩০ সালের মধ্যে মানবদেহে এই ধরনের কৃত্রিমভাবে তৈরি অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা। একইসঙ্গে, জিনগতভাবে পরিবর্তিত বিশেষ প্রজাতির ক্ষুদ্রাকৃতির শূকরের শরীরে মানুষের যকৃৎ, কিডনি এবং হৃদপিণ্ডের মতো অঙ্গ উৎপাদনের কাজও শুরু হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, ভবিষ্যতে অঙ্গদাতার অভাব দূর করতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
রুশ সরকারের দাবি, চলতি দশকের শেষ নাগাদ এই গবেষণার ফলাফল ব্যবহার করে প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার মানুষের জীবন রক্ষা করা যেতে পারে। যদিও এই দাবি এখনও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি, তবুও প্রকল্পটি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পুতিনের ব্যক্তিগত আগ্রহও এই প্রকল্পের অন্যতম চালিকাশক্তি। জানা গিয়েছে, তিনি নিজেও পেপটাইড থেরাপি ও ক্রায়োথেরাপি অনুসরণ করেন। তাঁর চিকিৎসক-কন্যা মারিয়া ভোরোন্তসোভা এবং প্রখ্যাত বিজ্ঞানী মিখাইল কোভালচুক এই মেগা প্রকল্পের নেতৃত্বে রয়েছেন।








