ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে বোমারু বিমানের সুরক্ষায় বিশাল আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করছে রাশিয়া

ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার এঙ্গেলস বিমান ঘাঁটিতে বোমারু বিমানের জন্য বিশাল আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয়েছে। ড্রোন হামলার হুমকি থেকে কৌশলগত বিমানগুলিকে রক্ষা করাই মূল লক্ষ্য।

Share:

নিউজ ব্যুরো, ২৪ জুন ২০২৬: রাশিয়া তার কৌশলগত বোমারু বিমানগুলির জন্য বিশাল আকারের সুরক্ষামূলক আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ শুরু করেছে। স্যাটেলাইট চিত্রগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এঙ্গেলস বিমান ঘাঁটিতে অন্তত ১৭টি বড় আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে।

রাশিয়ার সারাতোভ অঞ্চলের ভল্গা নদীর তীরে অবস্থিত এঙ্গেলস বিমান ঘাঁটি দেশটির প্রধান কৌশলগত বোমারু বিমান কেন্দ্র। এখানে তু-১৬০ ‘ব্ল্যাকজ্যাক’ এবং তু-৯৫ বোমারু বিমানগুলি মোতায়েন রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এতদিন ধরে রাশিয়ার বোমারু বিমানগুলি উন্মুক্ত স্থানে রাখা হত, যা স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির (START I) অংশ ছিল। এই চুক্তি অনুযায়ী, উভয় পক্ষই এমন কোনো গোপনীয় ব্যবস্থা ব্যবহার করবে না যা উপগ্রহের মাধ্যমে যাচাইয়ে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে কৌশলগত বোমারু বিমানগুলি সাধারণত বিমান ঘাঁটির উন্মুক্ত স্থানেই দৃশ্যমান থাকত।

তবে ইউক্রেন থেকে দীর্ঘপাল্লার ড্রোন হামলার ক্রমবর্ধমান হুমকি এই পুরনো সমীকরণকে বদলে দিয়েছে। গত ১ জুন, ২০২৫-এ ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার একাধিক বিমান ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার মধ্যে তু-৯৫এমএস বোমারু বিমানও ছিল। এই ঘটনা রাশিয়ার বোমারু বিমান বহরের দুর্বলতা স্পষ্ট করে তোলে।

রাশিয়ার বোমারু বিমান বহরে তু-৯৫এমএস এবং তু-২২এম৩-এর মতো সোভিয়েত-যুগের বিমান রয়েছে, যা আর উৎপাদিত হয় না। ফলে প্রতিটি বিমানের ক্ষতি রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা হ্রাস করে। যদিও তু-১৬০ উৎপাদনে আছে, এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং নির্মাণে বহু বছর লাগে।

এই পরিস্থিতিতে, বোমারু বিমানগুলির সুরক্ষা রাশিয়ার জন্য একটি কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এঙ্গেলস বিমান ঘাঁটিতে এই নতুন আশ্রয়কেন্দ্রগুলির নির্মাণ আধুনিক যুদ্ধে স্থলভাগে টিকে থাকার গুরুত্বকে তুলে ধরছে, যা আকাশপথে আক্রমণের ক্ষমতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। এটি রাশিয়ার বিমানশক্তি এবং কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে ভাবার ইঙ্গিত।