ব্যুরো নিউজ, ৭ নভেম্বর ২০২৬: ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার উপর আর্থিক চাপ বাড়াতে এতদিন নিষেধাজ্ঞার পথে হেঁটেছিল আমেরিকা। অথচ এবার জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেই ডিজেল আমদানির চুক্তি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সেই চুক্তি বাস্তবায়নের পথেই তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। আমেরিকার উদ্দেশে রওনা দেওয়া রাশিয়ার দুটি জ্বালানিবাহী ট্যাঙ্কার মাঝসমুদ্রে নিজেদের গতিপথ পরিবর্তন করেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, আদৌ কি আমেরিকার বাজারে পৌঁছবে রুশ ডিজেল?
গত ৯ অক্টোবর পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, রাশিয়া অবিলম্বে ৩ লক্ষ মেট্রিক টনেরও বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েক লক্ষ টন জ্বালানি পাঠানোর পরিকল্পনাও সামনে আসে। আমেরিকায় ডিজেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও পরিবহণ শিল্পকে স্বস্তি দিতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন।
কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নিয়েছে। সংবাদ সংস্থা AP-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাল্টিক সাগরের Primorsk বন্দর থেকে আমেরিকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করা দুটি ট্যাঙ্কারের একটি ব্রাজিলের দিকে এবং অন্যটি ভূমধ্যসাগরের দিকে চলে গিয়েছে। তৃতীয় একটি জাহাজের গন্তব্যও অনিশ্চিত। ফলে এখনও পর্যন্ত আমেরিকায় রুশ ডিজেলের কোনও নিশ্চিত সরবরাহ হয়নি।
এই চুক্তি ঘিরে আমেরিকার অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। নিউ জার্সির গভর্নর বন্দর কর্তৃপক্ষকে রুশ জ্বালানিবাহী জাহাজ গ্রহণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেসের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এই আমদানি করা হলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির আশঙ্কা, এই চুক্তির মাধ্যমে রাশিয়ার হাতে আরও অর্থ পৌঁছবে, যা ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে মস্কোকে সাহায্য করতে পারে।
সব মিলিয়ে জ্বালানির দাম কমানোর ট্রাম্পের উদ্যোগ এখন কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও আইনি পরীক্ষার মুখে।










