ব্যুরো নিউজ, ২৩ মে ২০২৬ঃ বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণআন্দোলনের জেরে দেশছাড়া হওয়ার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা চলছে। সম্প্রতি তাঁর দেশে ফেরার ইচ্ছার খবরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, মৃত্যুদণ্ডাদেশ মাথায় নিয়েই তিনি দেশে ফিরতে চান এবং আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। নতুন সরকার, যার নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক রহমান, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই হাসিনার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হয়েছে। তাঁর কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে এবং একাধিক মামলায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
‘টাইমস অব বাংলাদেশ’ সংবাদপত্রের দাবি অনুযায়ী, শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্প্রতি বৈঠক করা এক আওয়ামী লীগ নেতা জানিয়েছেন যে, তিনি দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে চান। এমনকি, এর জন্য তিনি বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে ট্র্যাভেল পাসও চাইতে পারেন। ওই নেতা আরও জানান, শেখ হাসিনা মনে করেন তাঁর বয়স হয়েছে এবং তিনি গণতন্ত্রের জন্য প্রাণ দিতেও রাজি। তবে, এই ইচ্ছার সত্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সন্দেহ রয়েছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী একটি বাংলাদেশি দৈনিকে মন্তব্য করেছেন যে, হাসিনা হয়তো কর্মীদের চাঙ্গা করার জন্য এমন কথা বলছেন, কিন্তু তাঁর ফেরার বিশ্বাসযোগ্য কোনো উপাদান নেই। অন্যদিকে, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার আইনি পথেই হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের মুখোমুখি করতে চায়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রাক্তন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেছেন, দেশে ফিরলে হাসিনাকে প্রথমে আত্মসমর্পণ করতে হবে। তাঁর বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যার নির্দেশ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জমি কেলেঙ্কারির মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আপিলের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও, সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। শেখ হাসিনার এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।








