ব্যুরো নিউজ, ২৯ মে ২০২৬ঃ ব্রিটেনের সাংসদ রুপার্ট লো ভারতীয় এবং পাকিস্তানি অভিবাসীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি ‘রিস্টোর ব্রিটেন’ নামে একটি নতুন দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দল গঠন করা এই নেতা দাবি করেছেন, ব্রিটিশ নাগরিকদের প্রাপ্য কাজ লক্ষ লক্ষ ভারতীয় ও পাকিস্তানি কেড়ে নিচ্ছে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ব্রিটেনের রাজনৈতিক মহল থেকে সামাজিক মাধ্যম – সর্বত্রই বিতর্ক ছড়িয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে করা এক পোস্টে রুপার্ট লো লেখেন, “আমি বিশ্বাস করি না যে, বেকার ব্রিটিশদের ব্রাত্য করে কাজ করার জন্য আমাদের লক্ষ লক্ষ পাকিস্তানি এবং ভারতীয়কে দেশে আনতে হবে।” এরপরই তিনি আরও লেখেন, “এতে যদি আমাকে বর্ণবিদ্বেষী বলা হয়, তবু আমার আপত্তি নেই।” এই মন্তব্যের পর থেকেই তাঁকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বহু মানুষ সরাসরি তাঁকে বর্ণবিদ্বেষী বলে আক্রমণ করেন। আবার কেউ কেউ ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক অতীতের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। এর আগেও অভিবাসন নিয়ে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন রুপার্ট লো। উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের কিছু এলাকায় গেলে মনে হয় যেন ‘বিদেশে চলে এসেছি’ – এমন মন্তব্যও করেন তিনি। ম্যানচেস্টারের বহু এলাকা ক্রমশ ‘ইসলামিক’ হয়ে উঠছে বলেও অভিযোগ করেন এই সাংসদ। এমনকি অভিবাসনকে ‘উপনিবেশ স্থাপন’-এর সঙ্গেও তুলনা করেন তিনি।
যদিও সরকারি পরিসংখ্যান রুপার্ট লোর বক্তব্যকে পুরোপুরি সমর্থন করছে না। ব্রিটেনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তাঁর নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র গ্রেট ইয়ারমাউথে ভারতীয় এবং পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার এক শতাংশেরও কম। অন্যদিকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সমীক্ষা জানাচ্ছে, গত এক দশকে ব্রিটেনে বিদেশি নাগরিকদের কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে ঠিকই, তবে তার বড় অংশই স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং পরিচর্যা ক্ষেত্রের মতো কর্মী ঘাটতিযুক্ত জায়গায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রুপার্ট লোর মন্তব্য মূলত অভিবাসন-বিরোধী রাজনীতিকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা। আগামী দিনে ব্রিটেনের রাজনীতিতে এই বিতর্ক আরও বড় আকার নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।








