ব্যুরো নিউজ, ৩ নভেম্বর ২০২৬: আমেরিকার আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন এবার আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচন হতে চলেছে। আমেরিকান ডিপ স্টেটের ভিতর ক্ষমতা দখলের ঠাণ্ডা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এই নির্বাচন।
স্বাধীন সংস্থা ওপেনসিক্রেটসের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১২ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে এই নির্বাচনে। এই বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ আসছে রাজনৈতিক দলগুলির বাইরের বিভিন্ন সংস্থা, বিশেষ করে সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (সুপার প্যাকস) থেকে। ৩রা নভেম্বরের নির্বাচনের আগে এই সংস্থাগুলি গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলিতে প্রচুর অর্থ ঢালছে।
এই অর্থলগ্নিতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম বিলিয়নেয়ার ইলন মাস্ক। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার দান করেছেন। তাঁর বেশিরভাগ অর্থই টেক্সাসে খরচ হচ্ছে, যেখানে তাঁর একাধিক কোম্পানির সদর দফতর অবস্থিত।
অন্যদিকে, বিলিয়নেয়ার জর্জ সোরোসের দুটি সংস্থা, জিওসর কর্প এবং ফান্ড ফর পলিসি রিফর্ম, উদারপন্থী গোষ্ঠীগুলিকে মোট ১০২ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছে। প্রাক্তন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গও ডেমোক্র্যাটদের জন্য ৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি দান করেছেন।
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, সাধারণ মানুষ বা রাজনৈতিক দলগুলি সরাসরি প্রার্থীদের নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি অর্থ দান করতে পারে না। কিন্তু সুপার প্যাকসগুলি ব্যক্তি, কর্পোরেশন বা শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে সীমাহীন অনুদান গ্রহণ করতে পারে। তারা সরাসরি প্রার্থীদের অর্থ না দিলেও, তাদের সমর্থনে বা বিরোধিতায় স্বাধীনভাবে অর্থ ব্যয় করতে পারে।
ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের (এফইসি) তথ্য অনুযায়ী, মধ্য অক্টোবর পর্যন্ত ৯.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলার এসেছে প্যাকস এবং সুপার প্যাকস থেকে। পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলির তুলনায় এই খরচ প্রায় ৩০% বেশি।
তাই মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে আড়ালে ঘটে যাওয়া ক্ষমতা দখলের আগ্রাসী গোপন লড়াইকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে প্রবল উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।








