ইসফাহান ও বন্দর আব্বাসে মার্কিন হামলা, হরমুজ বন্ধের পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের

ইসফাহান ও বন্দর আব্বাসে মার্কিন হামলা, হরমুজ বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের। ট্রাম্পের কড়া বার্তার পর পশ্চিম এশিয়ায় চরম উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ।

Share:

ব্যুরো নিউজ , ১১ জুন ২০২৬ :  পশ্চিম এশিয়ায় ফের যুদ্ধের আগুন আরও ভয়াবহ রূপ নিল। মার্কিন অ্যাপাচে কপ্টার দুর্ঘটনার জেরে ইরানের তেহরান, ইসফাহান ও বন্দর আব্বাসের মতো একাধিক শহরে ৪৯টি মিসাইল ও যুদ্ধবিমান দিয়ে বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনক্রমে এই আক্রমণ চালানো হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, আত্মরক্ষার স্বার্থে ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে অতিরিক্ত হামলা চালানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, পশ্চিম তেহরান, ফার্স প্রদেশ, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, কিশ, মিনাব এবং ইসফাহানের কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার পরই পাল্টা জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী (IRGC)। তাদের মহাকাশ ও নৌ শাখা যৌথভাবে দু’দফায় অভিযান চালিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। সংঘাতের আবহে ইরানের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, নিরাপত্তাজনিত কারণে হরমুজ প্রণালী সব ধরনের জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। তেলবাহী জাহাজ ও বাণিজ্যিক নৌযানও এর আওতায় পড়বে বলে জানানো হয়েছে। যদিও মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড এই দাবি খারিজ করে বলেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে এখনও স্বাভাবিকভাবেই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ৪৯টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে আমেরিকা এবং ইরানের আকাশসীমায় নজরদারি চালিয়ে প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করার কাজও চলছে।

অন্যদিকে, ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনীর মহাকাশ শাখার প্রধান মেজর জেনারেল মাজিদ মুসাভি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে গোটা অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে দেওয়া হবে। বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবির পর কয়েকটি এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে বলে খবর। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছে।