ব্যুরো নিউজ, ৩০ জুন ২০২৬ঃ ইরান বনাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফুটবল মাঠে এই দুই দেশের লড়াই যেন রাজনৈতিক টানাপোড়েনেরই প্রতিচ্ছবি। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপে ইরানের বিদায় এবং তাদের ফুটবলারদের উপর রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ নতুন করে উসকে দিয়েছে পুরনো বিতর্ক। প্রশ্ন উঠছে, ফুটবল কি সত্যিই পারে দুই যুযুধান দেশের মধ্যে শান্তির বার্তা বয়ে আনতে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ফিরে দেখা যাক ১৯৯৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সে বছর ফ্রান্সে আয়োজিত বিশ্বকাপে একই গ্রুপে পড়েছিল ইরান ও আমেরিকা।
তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের কড়া নির্দেশ ছিল মার্কিন ফুটবলারদের সঙ্গে হাত না মেলানোর। কিন্তু ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বি দলের সদস্য হিসেবে ইরানকেই এগিয়ে যেতে হত। এই কঠিন পরিস্থিতিতে ভেদাভেদ ভুলে এগিয়ে আসেন মার্কিন ফুটবলাররা। ফিফার নিয়ম খানিকটা বদলে এ দল হিসেবে তারাই এগিয়ে যায় ইরানের দিকে। ইরানও সেই করমর্দন প্রত্যাখ্যান করেনি। খামেনেইয়ের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে হাতে হাত মেলান দুই দেশের প্রতিনিধিরা, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সৌহার্দ্যের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে। শুধু তাই নয়, শান্তির প্রতীক সাদা গোলাপ উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় মার্কিন ফুটবলারদের হাতে। এরপর দুই দলের খেলোয়াড়রা একসঙ্গে ক্যামেরাবন্দী হন, মুখে চওড়া হাসি।
মার্কিন ডিফেন্ডার জেফ আগুসের অমর উক্তি ছিল, “রাজনীতিবিদরা ২০ বছরে যা করতে পারেননি, আমরা ৯০ মিনিটে তা করে দেখালাম।” ফুটবলারদের এই পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনকে স্বীকৃতি দিয়ে ফিফা দুই দলের হাতে ফেয়ার প্লে পুরস্কার তুলে দেয়। ২৮ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই ছবি আজও প্রাসঙ্গিক। বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন ইরানের ফুটবলাররা অমানুষিক অত্যাচারের অভিযোগ করছেন, তখন ১৯৯৮ সালের সেই শান্তির বার্তা আরও বেশি করে মনে পড়ছে। ফুটবল কি আজও সেই সেতু বন্ধনের ক্ষমতা রাখে? এই প্রশ্ন রেখেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল ইরান।








