বাল্যবিবাহ রুখে পড়াশোনায় ফেরা সুন্দরবনের দুই ছাত্রীকে ‘কন্যারত্ন’ সম্মান

বাল্যবিবাহ রুখে পড়াশোনায় ফেরা সুন্দরবনের দুই ছাত্রীকে 'কন্যারত্ন' সম্মাননা দিল রাজ্য সরকার। সুস্মিতা ও হাবিবার সাহসিকতার স্বীকৃতি।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৫ আগস্ট ২০২৬: সুন্দরবনের দুই অদম্য সাহসী ছাত্রীকে রাজ্য সরকারের ‘কন্যারত্ন’ সম্মাননা প্রদান করা হলো। বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে পড়াশোনায় ফিরে আসার দৃঢ় সংকল্পের জন্য সুস্মিতা সাফুই এবং হাবিবা মোল্লা নামের এই দুই ছাত্রী এই বিশেষ প্রকল্পের সুবিধা পেল।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়া ‘কন্যারত্ন’ প্রকল্পের আওতায় এই ছাত্রীরা বার্ষিক ১ হাজার টাকা এবং এককালীন ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পাবে। ক্যানিংয়ের মিঠাখালীর বাসিন্দা সুস্মিতা ক্যানিং দ্বারকানাথ বালিকা বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। মাধ্যমিক পরীক্ষার আগেই তার পরিবার এবং প্রতিবেশীরা তাকে বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু সুস্মিতা দৃঢ়ভাবে এর বিরোধিতা করে এবং দিগম্বরপুর অঙ্গীকার নামক একটি শিশু সুরক্ষা সংগঠনের সাহায্য চায়। স্থানীয় পঞ্চায়েত ও থানার সহায়তায় তার মায়ের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়, যার ফলে বিয়ে বন্ধ হয়। বর্তমানে সুস্মিতা তার পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, বাসন্তী ব্লকের ঢুরি জনপ্রিয়নগরের জনপ্রিয় উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী হাবিবা মোল্লাও একই রকম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে।

তার বান্ধবী সুরাইয়া মোল্লার অষ্টম শ্রেণীতে পড়াকালীন বিয়ে ঠিক হলে, হাবিবা নিজেই বাসন্তী থানায় ফোন করে বিয়ে আটকানোর অনুরোধ জানায়। প্রশাসন ও একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের দ্রুত তৎপরতায় সেই বাল্যবিবাহও ভেস্তে যায়। এই দুই ছাত্রীর অদম্য সাহস ও দৃঢ়তার স্বীকৃতিস্বরূপ আলিপুর জেলাশাসক ভবনে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তাদের হাতে ‘কন্যারত্ন’ পুরস্কার তুলে দেন জেলাশাসক অভিষেক কুমার তিওয়ারি এবং জেলা কন্যারত্ন আধিকারিক সুপর্ণা বিশ্বাস। এই ঘটনা সমাজে বাল্যবিবাহ রোধে এক ইতিবাচক বার্তা দিল এবং মেয়েদের ক্ষমতায়নে অনুপ্রেরণা যোগাল।