ব্যুরো নিউজ, ২৩ জুন ২০২৬ঃ বাজেট পেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নবান্নে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসল এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (ADB)। রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তর সঙ্গে এই হাইপ্রোফাইল বৈঠকে এডিবি কর্তারা রাজ্যের শিল্পায়ন ও পরিকাঠামো উন্নয়নে বড়সড় আর্থিক সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল নীতি আয়োগের রূপরেখা মেনে রাজ্যে একাধিক ‘সিটি ইকোনমিক রিজিওন’ (CER) গড়ে তোলা।
কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই সুরাত, বারাণসী, বিশাখাপত্তনম ও ভুবনেশ্বরকে কেন্দ্র করে ৪টি সিটি ইকোনমিক রিজিওন গড়ে তোলার জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এবার একই ধাঁচে বাংলায় নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার প্রস্তাব নবান্নের টেবিলে এনেছে এডিবি। এর সঙ্গে রয়েছে ৬ দফা রোডম্যাপ। এডিবি-র প্রস্তাবিত ৬ দফা রোডম্যাপের মধ্যে অন্যতম হল দুটি ‘সিটি ইকোনমিক রিজিওন’ মডেল তৈরি। পৌরসভার ভৌগোলিক সীমানার বাইরে গিয়ে পার্শ্ববর্তী জেলা, শিল্পাঞ্চল, লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক ও শ্রমবাজারকে এক ছাতার তলায় আনবে এই মডেল। সফল ৪টি শহরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলায় অন্তত দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে কলকাতা মেট্রোপলিটন সিইআর (কলকাতা-হাওড়া-হুগলি-উলুবেড়িয়া-ডানকুনি বেল্ট), শিলিগুড়ি সিইআর (জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার), হলদিয়া-দিঘা সিইআর (বন্দর-ভিত্তিক শিল্পাঞ্চল) এবং দুর্গাপুর-আসানসোল সিইআর (ভারী শিল্প) বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়াও, শিল্প করিডর তৈরিতে আর্থিক সহযোগিতা, লজিস্টিকস হাবের রূপান্তর (ডানকুনি, শিলিগুড়ি, হলদিয়া), এবং গণপরিবহণ ও স্মার্ট মোবিলিটিতে কৌশলগত পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে এডিবি। বিশেষত, ইলেকট্রিক বাস ব্যবহার বাড়ানো ও দূষণহীন আধুনিক পাবলিক ট্রান্সপোর্ট পরিকাঠামো গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগগুলি রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।








