বর্ধমানে তোলাবাজি, মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে ধৃত ২ তৃণমূল নেতা, মাথায় বন্দুক ঠেকানোর অভিযোগ

বর্ধমানে বন্দুক ঠেকিয়ে মারধর, তোলাবাজি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার ২ তৃণমূল নেতা। বর্ধমান ১ ব্লক সভাপতি মানস ভট্টাচার্য ও রায়ানের শেখ জামাল ধৃত।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১ জুন ২০২৬ঃ মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে মারধর, তোলাবাজি, ভাঙচুর ও শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর অভিযোগে বর্ধমান থেকে দুই তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের নাম মানস ভট্টাচার্য, যিনি বর্ধমান ১ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি, এবং শেখ জামাল, যিনি রায়ানের ১ অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি। গত ৩১ মে বর্ধমান থানার এক বাসিন্দার করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে বর্ধমান থানার পুলিশ এই পদক্ষেপ করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর আলমগির হোসেন-সহ অন্তত দশজন পুরনো শত্রুতার জেরে অভিযোগকারীর বাড়িতে জোর করে ঢুকে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে দশ লক্ষ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে অভিযোগকারীকে নির্মমভাবে মারধর করা হয় এবং তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগকারীকে বাঁচাতে গেলে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল।

অভিযোগকারী জানিয়েছেন, সেই সময় ভয়ে তিনি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেননি। কিন্তু ২০২১ সালের ৩ মে ফের অভিযুক্তরা তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং বাড়িতে থাকা গয়না ও নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নেয়। বাধা দিতে গেলে অভিযোগকারীর স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাকে মারধর করা হয় এবং তাঁর মেয়ের শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বন্দুক দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অভিযোগকারীকে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলা হয়।

স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য এই ঘটনার দায় দলের নয় বলে দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, দল এই ধরনের অসামাজিক ও অপরাধমূলক ঘটনায় মদত দেয় না এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের উপযুক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। এই গ্রেফতারি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।