পশ্চিমবঙ্গের কলেজগুলিতে শিক্ষকদের জন্য বাধ্যতামূলক বায়োমেট্রিক হাজিরা: রাজ্য সরকারের নয়া উদ্যোগ

পশ্চিমবঙ্গের কলেজগুলিতে শিক্ষকদের জন্য বায়োমেট্রিক হাজিরা বাধ্যতামূলক করল রাজ্য সরকার। শিক্ষায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ও স্বচ্ছতা আনতে এই পদক্ষেপ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২০ মে ২০২৬ঃ পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। এবার রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি কলেজে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের জন্য বায়োমেট্রিক হাজিরা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করার লক্ষ্যেই গৃহীত।

এতদিন সরকারি কলেজগুলিতে বায়োমেট্রিক হাজিরা পুরোপুরি কার্যকর ছিল না, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছিল। তবে এবার সেই চিত্র বদলাতে চলেছে। আগামী দিন থেকে আর কোনও শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মী নিজেদের মনমর্জি মতো কলেজে প্রবেশ বা প্রস্থান করতে পারবেন না। স্কুলের মতো এবার কলেজের ক্ষেত্রেও এই পদ্ধতি কঠোরভাবে লাগু হবে। এই নিয়ে বিকাশ ভবনে উচ্চ আধিকারিকদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে খবর।

এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাসবিহারীর বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত এবং শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। বৈঠকের পর বিধায়করা জানান, শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত সব বিধায়কদের মতামত নথিভুক্ত করা হচ্ছে এবং মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন, কারণ তিনিই বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্বে আছেন। শঙ্কর ঘোষ আরও উল্লেখ করেন যে, পাঠ্যক্রম বদলের বিষয়েও একটি কমিটি গঠন করা হবে। যদিও এর মূল লক্ষ্য উচ্চশিক্ষাকে তার পূর্বের স্থানে ফিরিয়ে আনা এবং পুন    র্জীবনের যে কথা বলা হয়েছে, সেখানে শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ স্থান আছে।

এই পদক্ষেপের ফলে কলেজগুলিতে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের সময়ানুবর্তিতা ও উপস্থিতিতে আরও স্বচ্ছতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অনিয়ম দূর করে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এর মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে এবং ছাত্রছাত্রীরাও উন্নত পঠন-পাঠনের সুযোগ পাবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।