ব্যুরো নিউজ, ১৩ জুন ২০২৬ : পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে এবার কঠোর অবস্থান নিল নতুন বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে আসা শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের অতীত এবং আর্থিক লেনদেনের ইতিহাস পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হবে।
তাঁর নির্দেশ, কোনও অসাধু ব্যবসায়ী যেন বিনিয়োগের নাম করে নিজেদের আখের গুছিয়ে নিতে না পারেন। শিল্পসচিব বন্দনা যাদবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে, যারা বিনিয়োগে আগ্রহী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে কোনও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে। রাজ্যের লক্ষ্য, শিল্প-বাণিজ্যের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গকে দেশের প্রথম তিনটি রাজ্যের মধ্যে নিয়ে আসা। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও আর্থিক দুর্নীতির তদন্ত চলছে কি না, সেটা আমাকে সবার আগে জানতে হবে।” তিনি পূর্বতন সরকারের “মিথ্যাচার আর ফটোসেশন”-এর সমালোচনা করে বলেন, তৃণমূল জমানায় সারদা, রোজ়ভ্যালির মতো বেআইনি লগ্নী সংস্থার রমরমা দেখা গিয়েছিল এবং বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন (বিজিবিএস) হলেও বাস্তবে রাজ্যে শিল্পের কোনও অগ্রগতি হয়নি। নতুন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় ইতিমধ্যেই বিজিবিএস-এ ঘোষিত বিনিয়োগ এবং প্রকৃত শিল্প আগমনের খতিয়ান চেয়েছেন। এমনকি, বিজিবিএস আয়োজনে পূর্বতন সরকার কত খরচ করেছে, তারও বিস্তারিত খোঁজ নিচ্ছে বর্তমান সরকার। রাজ্য সরকার চায়, বাংলায় কলকারখানা গড়ে উঠুক এবং কর্মসংস্থান তৈরি হোক। কিন্তু তা হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে। অতীতে বামফ্রন্ট ও তৃণমূল সরকারের আমলে শিল্প গড়ার জন্য জমি নিয়ে অন্য কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। শুভেন্দু অধিকারী এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি চান না।
তিনি স্পষ্ট জানান, “যাঁরা বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে আসছেন, তাঁরা অতীতে কোনও ব্যাঙ্ক অথবা জমি জালিয়াতি করেছেন কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।” ২২শে জুন বাজেটে শিল্প সংক্রান্ত ইতিবাচক পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। টাটার মতো শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলিকে বাংলায় ফিরিয়ে আনার বার্তাও তিনি দিয়েছেন, তবে তা হবে সতর্কতার সঙ্গে।








