ব্যুরো নিউজ, ৫ অক্টোবর ২০২৬: দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়তে এখনও ১২ দিনের অপেক্ষা। তবে তার আগেই রবিবার কৃষ্ণনবমীর পুণ্য তিথিতে শুরু হয়ে গেল মালদার চাঁচল রাজবাড়ির ঐতিহ্যবাহী পুজো। চাঁচল শহর থেকে প্রায় দু’কিলোমিটার দূরে পাহাড়পুরের চণ্ডীমণ্ডপে প্রথা মেনেই দেবীর আরাধনা শুরু হয়েছে। কৃষ্ণনবমীর সকালে মরা মহানন্দার সতীঘাট থেকে তামার কলসে জল ভরে ঘট প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে পুজোর প্রাথমিক আচার সম্পন্ন হয়। পুরোহিত সৌমিত্র চক্রবর্তী, অচিন্ত মিশ্র, টিটু বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে এই পুজো শুরু হয়। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত দেবীর বিসর্জনের আগে পর্যন্ত চলবে এই রীতি।
ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় চণ্ডীমণ্ডপে দেবীর মূল মূর্তি আনা হবে। তার আগে পর্যন্ত প্রতিদিন নিয়ম মেনে ঘটেই চলবে পুজো এবং সন্ধ্যায় হবে চণ্ডীপাঠ। পাহাড়পুরের এই চণ্ডীমণ্ডপের দেবী চতুর্ভুজা সিংহবাহিনী রূপে পূজিতা হন। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি পুজো নয়, বরং দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও গভীর আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক বিশ্বাস। কথিত আছে, ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে চাঁচলের রাজা রামচন্দ্র রায় চৌধুরীর হাত ধরে প্রায় ৩৭৫ বছরেরও বেশি সময় আগে এই পুজোর সূচনা হয়েছিল। চাঁচল রাজবাড়ির পুজো হিসেবেই পরিচিত পাহাড়পুরের এই পুজো। রাজবাড়ির জৌলুস না থাকলেও, পাহাড়পুর, গিলাবাড়ি-সহ চাঁচলের সাধারণ মানুষের সাহায্য ও সহযোগিতাতেই আজও জাঁকজমক করে পালিত হয় এই প্রাচীন পুজো। দুর্মূল্যের বাজারে বর্তমানে ট্রাস্টি বোর্ডের বরাদ্দ মাত্র ৯ হাজার টাকা। ফলে পুজোর ভার অনেকটাই কাঁধে তুলে নিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাই। কয়েকশো বছরের ঐতিহ্য আর মানুষের আবেগে আজও অমলিন পাহাড়পুর চণ্ডীমণ্ডপের পুজো। এই পুজো এলাকার মানুষের কাছে একাত্মতার প্রতীক।








