৩ বছর পর বন্ধ রেল কোয়ার্টার্সে মিলল নরকঙ্কাল! নিখোঁজ রেলকর্মীর পরিণতি ঘিরে রহস্য চিত্তরঞ্জনে

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৮ সেপ্টেম্বর: দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা রেল কোয়ার্টার্সের ভিতর থেকে নিখোঁজ এক রেলকর্মীর নরকঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে চিত্তরঞ্জনে। সোমবার রেল শহরের ১১ নম্বর রাস্তার ১১/বি কোয়ার্টার্স থেকে বেশ কিছু হাড়গোড় উদ্ধার হয়। মৃতের নাম প্রকাশ চন্দ্র রাউত রায় (৫৯) বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে খবর, প্রকাশবাবু ওই কোয়ার্টার্সে একাই থাকতেন। ২০২১ সালে তিনি হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের তরফে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ চালানোর পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন কোনও সন্ধান না মেলায় ২০২৩ সালে চিত্তরঞ্জন থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।

এদিকে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কোয়ার্টার্সটি নিয়ম মেনে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেয় পরিবার। সেই সূত্রে চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল প্রকাশবাবুর পরিজনরা কোয়ার্টার্সের তালা খুলে ভিতরে প্রবেশ করেন। এরপর প্রয়োজনীয় কাজে পরিবারের সদস্যদের সেখানে যাতায়াতও ছিল।

সোমবার প্রকাশবাবুর ভাইপো সুপ্রতিম রাউত রায় কোয়ার্টার্সে থাকা একটি বাইক সরাতে গিয়ে ঘরের ভিতরে হাড়গোড় দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, ঘরের যে অংশে আগে পুজো করা হত, সেখান থেকেই কঙ্কালটি উদ্ধার হয়েছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় চিত্তরঞ্জন থানার পুলিশ। উপস্থিত ছিলেন ইন্সপেক্টর ইনচার্জ শেখ ইসমাইল আলি, আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি (কুলটি) জাবেদ হোসেন এবং সালানপুরের বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাস। ফরেনসিক দলকেও খবর দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, চিত্তরঞ্জন রেল কারখানার কর্মী প্রকাশবাবু সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত ছিলেন। দুঃস্থ শিশুদের পড়াশোনায় সাহায্য করা-সহ বিভিন্ন সামাজিক কাজে তাঁর ভূমিকা ছিল বলেও স্থানীয়দের বক্তব্য।

তবে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি সত্যিই প্রকাশ চন্দ্র রাউত রায়ের কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ডিএনএ পরীক্ষা-সহ প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি মৃত্যুটি স্বাভাবিক, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও কারণে হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পরিবারের সদস্যরা গত কয়েক মাস ধরে কোয়ার্টার্সে যাতায়াত করলেও এতদিন কীভাবে হাড়গোড় নজরে এল না, সেই প্রশ্নও তদন্তের অংশ হয়ে উঠেছে। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।