ব্যুরো নিউজ, ২৯ মে ২০২৬ : শুক্রবার ভরসন্ধ্যায় দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ধেয়ে আসা তীব্র কালবৈশাখী ঝড় ও আকস্মিক দুর্যোগে তছনছ হয়ে গেল একাধিক জেলা। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মোট ৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে মৃতদের পরিবারপিছু ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন তিনি।
নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঝড়ের দাপটে মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে প্রশাসন। স্থানীয় বিধায়করা দ্রুততার সঙ্গে এই ৪ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক উপভোক্তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। অন্যদিকে, ঝড়ের দাপটে ও গাছ ভেঙে পড়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যাঁরা আহত হয়েছেন, তাঁদের চিকিৎসার বন্দোবস্ত করছে সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, আহতদের ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসা শুরু করাটা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, কলকাতার ওপর দিয়ে প্রায় ৮৮ কিলোমিটার বেগে স্কোয়াল বা দমকা ঝড় বয়ে গিয়েছে। সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলকাতা, হাওড়া এবং বিধাননগর এলাকা। ঝড়ের দাপটে প্রিন্সেপ ঘাটের কাছে গাছ ভেঙে পড়ে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সাউথ সিটি মলের কাচের একাংশ ভেঙে পড়েও তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়। কলকাতা, হাওড়া ও বিধাননগরের বহু রাস্তায় উপড়ে পড়েছে বড় বড় গাছ, যার ফলে বিপর্যস্ত হয়েছে ট্রাফিক ব্যবস্থা। মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত রাস্তা পরিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছেন। আবহাওয়া দফতর আরও জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের ওপর এখনও ঘূর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপ অক্ষরেখা সক্রিয়। ফলে শনিবারও কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের অন্তত ১০টি জেলায় তীব্র ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রবিদ্যুৎ সহ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।








