ব্যুরো নিউজ, ১৩ জুন ২০২৬ : হাওড়া পুরসভা এলাকায় জঞ্জালের সমস্যা ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, যার জেরে নাজেহাল হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। দুর্গন্ধে নাকাল হওয়ার পাশাপাশি জমে থাকা আবর্জনা থেকে দূষণ ছড়ানোর আশঙ্কাও বাড়ছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দিন কাটছে হাওড়াবাসীর, সঙ্গে দোসর নিকাশি সমস্যা। দীর্ঘদিন পুরভোট না হওয়ায় এই সমস্যা আরও গভীর হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
পুরসভা সূত্রে খবর, হাওড়া পুর এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৯১০ মেট্রিক টন জঞ্জাল উৎপন্ন হয়। কিন্তু জঞ্জাল সংগ্রহ ও পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও কর্মীর অভাব প্রকট। মাত্র ১৩টি ট্রাক্টর ও ৩৩টি নিজস্ব ট্রাক দিয়ে এই বিপুল পরিমাণ জঞ্জাল সামলানো কঠিন। এছাড়াও, আবর্জনা জমা করার জন্য ১৬১৬টি ডিপো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ভ্যাট থেকে সময়মতো জঞ্জাল না সরানোয় তা রাস্তায় উপচে পড়ছে, যা পথচারীদের জন্য নিত্যদিনের সমস্যা। বেলগাছিয়ায় ভাগাড়ে ধস নামার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে, এখন জঞ্জাল যাচ্ছে কলকাতার ধাপা ও বৈদ্যবাটিতে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, অফিস টাইমে জঞ্জাল সরানোর ফলে যানজট ও দুর্গন্ধের সমস্যা বাড়ে। ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাবলু মাইতি এবং কমলকান্তি দাস এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তবে, নবনির্বাচিত বিধায়করা এই সংকট মোকাবিলায় মাঠে নেমেছেন। সম্প্রতি হাওড়া পুরভবনে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, বাড়ি বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের জন্য বদ্ধ বক্সযুক্ত সংগ্রহ ব্যবস্থা চালু করা, বিভিন্ন এলাকায় টিপার ভ্যান ও মুভেবল কম্প্যাক্টর বসানো। কম্প্যাক্টরের মাধ্যমে বর্জ্য সংকুচিত করে কম জায়গায় বেশি বর্জ্য রাখা সম্ভব হবে এবং দুর্গন্ধ ও দূষণ কমবে।
এছাড়াও, নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং শুকনো-ভেজা বর্জ্য আলাদা করে সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উত্তর হাওড়ার বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী উমেশ রাই জানিয়েছেন, কনজারভেন্সি ডিপার্টমেন্টে কর্মী সংখ্যা বাড়ানোরও পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাক্তন বিধায়ক গৌতম চৌধুরীও এই কাজে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করা হচ্ছে, এই পদক্ষেপগুলি হাওড়াকে জঞ্জালমুক্ত করতে সাহায্য করবে।








