ব্যুরো নিউজ, ২২ জুন ২০২৬ঃ রাজ্যের আকাশপথের পরিকাঠামোয় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথে পশ্চিমবঙ্গ। দমদম বিমানবন্দরের উপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে এবং দক্ষিণবঙ্গের আঞ্চলিক অর্থনীতিতে নতুন জোয়ার আনতে কল্যাণীর কাছে একটি দ্বিতীয় গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর স্থাপনের ঐতিহাসিক প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে রাজ্য বাজেটে।
উত্তরপ্রদেশের নয়ডার জেওয়ার বিমানবন্দরের সফল মডেল অনুসরণ করে এই আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উপর চাপ কমাতে যেমন জেওয়ার বিমানবন্দর তৈরি হয়েছে, ঠিক তেমনই কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লাগামহীন ভিড় ও পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে কল্যাণীকে বেছে নেওয়া হয়েছে। দমদম বিমানবন্দর বর্তমানে চারদিক থেকে বসতি ও বহুতল দ্বারা পরিবেষ্টিত হওয়ায় রানওয়ে সম্প্রসারণ বা দ্বিতীয় রানওয়ে তৈরি করা প্রায় অসম্ভব। এই ‘ল্যান্ড-লকড’ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে কল্যাণীকে আদর্শ ভৌগোলিক অবস্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, কল্যাণীর কাছে ১,০০০ থেকে ১,৫০০ একর জমি শনাক্ত করার কাজ শুরু হতে চলেছে। এই সুবিশাল জমিই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এটি শুধু অভ্যন্তরীণ নয়, আন্তর্জাতিক বিমান ওঠানামার উপযোগী এক সুবিশাল অ্যাভিয়েশন হাব হতে চলেছে। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে এবং প্রস্তাবিত নতুন কানেক্টিভিটি করিডোরের ফলে কলকাতা থেকে কল্যাণীর দূরত্ব এখন মাত্র এক-দেড় ঘণ্টার। এই মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হবে। রিয়েল এস্টেট, পর্যটন এবং লজিস্টিক শিল্পে এক নতুন গতি আসবে।
আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ কার্গো ব্যবসার প্রসারেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যা বাংলাদেশ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বাণিজ্যের করিডোর হিসেবে কাজ করবে। এই প্রস্তাব দ্রুত আইনি জটমুক্ত হয়ে আলোর মুখ দেখলে বাংলার সামগ্রিক শিল্পায়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।








