চোরবাগানের পুনরাবৃত্তি রুখতে কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোয় কড়া নিরাপত্তা, বুড়িমার দর্শনে বিশেষ ব্যবস্থা

কলকাতার চোরবাগানের ঘটনার পর কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোয় ভিড় সামলানো নিয়ে উদ্বেগ। বুড়িমার দর্শনে জনস্রোত, নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা? জানুন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৪ অক্টোবর ২০২৬: কলকাতার চোরবাগানে দুর্গাপুজোর মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনার পর কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহী জগদ্ধাত্রী পুজোয় ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রতি বছর হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয় রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের শহরে, বিশেষ করে চাষাপাড়া বুড়িমার দর্শনে। এই বিপুল জনস্রোত সামলানোই এখন প্রশাসন ও পুজো উদ্যোক্তাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

নদিয়া জেলার প্রাক্তন পুলিশ কর্তারাও স্বীকার করছেন, কৃষ্ণনগরে পুজোর সময় যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। চোরবাগানের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলা ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিকল্পনা করছে। দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বেরোনোর জন্য পৃথক পথ, পর্যাপ্ত ব্যারিকেড, সিসিটিভি নজরদারি, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুল্যান্স ও চিকিৎসা পরিষেবার প্রস্তুতিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চাষাপাড়া বুড়িমা পুজো কমিটির সাধারণ সম্পাদক কেষ্ট পাল জানিয়েছেন, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে কোনো ঝুঁকি নিতে চান না এবং সম্পূর্ণ বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশ মতো হবে। অন্যদিকে, কাঁঠালপোতা ছোটমা পুজো কমিটির প্রাক্তন কর্তা দেবাশিস রায় মনে করেন, কৃষ্ণনগরে পুজো ছড়িয়ে ছিটিয়ে হওয়ায় এক জায়গায় ভিড় উপচে পড়ার সম্ভাবনা কম, তবে বুড়িমার কাছে ভিড় বেশি হয়।

কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তারকনাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই পুলিশ ও পুজো উদ্যোক্তাদের নিয়ে সমন্বয় কমিটির বৈঠক হবে। তিনি প্রতিটি প্রবেশ ও প্রস্থান পথ বড় করার এবং রাস্তায় পুজো মণ্ডপগুলিতে যথাযথ চেকিংয়ের উপর জোর দিয়েছেন।

এছাড়াও, বিসর্জনের শোভাযাত্রার সময় রাজপথে জনসমাগম একটি বড় উদ্বেগের কারণ, যেখানে ক্রাউড ম্যানেজমেন্টের অভাবে চোরবাগানের মতো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। জেলা পুলিশ সুপার অতুল ভি জেলাশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমন্বয় সভার আয়োজন করবেন বলে জানিয়েছেন।