ব্যুরো নিউজ, ৮ অক্টোবর ২০২৬: উত্তরবঙ্গের জাতীয় সড়কে হাতিদের নিরাপদ চলাচলের জন্য এক বিশাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২,০৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে জাতীয় সড়ক ৩২৭-এর ওপর তৈরি হতে চলেছে পাঁচটি এলিফ্যান্ট আন্ডারপাস। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল উত্তরবঙ্গের বনজঙ্গলে বসবাসকারী হাতিদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং একইসাথে সড়কপথে যান চলাচল মসৃণ রাখা। এটি উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থার এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত এই চারলেনের সড়কপথটি বাগডোগরা, পানিটাঙ্কি, খড়িবাড়ি ও গলগলিয়া ছুঁয়ে যাবে।
৩১.০২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পে তিনটি প্রধান ব্রিজ, সার্ভিস রোড এবং একটি আরওবি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই আন্ডারপাসগুলির মাধ্যমে হাতিরা মূল সড়কের নিচ দিয়ে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবে, যার ফলে ট্র্যাফিক থেকে তাদের দূরত্ব বজায় থাকবে এবং দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে। করিডরগুলি পর্যাপ্ত প্রশস্ত হবে যাতে একসঙ্গে একাধিক হাতি চলাচল করতে পারে। পাঁচটি আন্ডারপাসের মোট দৈর্ঘ্য হবে ১,৭৬৫ মিটার। এর মধ্যে সন্ন্যাসী চা বাগান মোড়ে ৩১৫ মিটার, কিরণচন্দ্র চা বাগানে যথাক্রমে ৭০০ মিটার ও ৪৯০ মিটারের দুটি, অটল চা বাগানে ৬০ মিটার এবং পানিটাঙ্কিতে ২০০ মিটারের আন্ডারপাস তৈরি হবে। প্রতিটি আন্ডারপাসের উচ্চতা ৭ মিটার এবং প্রস্থ ২২ মিটার হবে। বন দফতর সূত্রে খবর, কিরণচন্দ্র চা বাগানকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাতি করিডর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে একসঙ্গে ১০০-র বেশি হাতি চলাচল করে। সেখানে একটি ওয়াচ টাওয়ারও থাকবে। হাতিদের সুরক্ষার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে সাউন্ডপ্রুফ ব্যারিয়ার, ট্র্যাফিক সিগন্যাল, রবার স্ট্রিপ, ইকো-সেন্সিটিভ ফেন্সিং এবং সেন্সর-ভিত্তিক মনিটরিং সিস্টেম। এছাড়াও সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে। এই প্রকল্পটি উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়ে পর্যটন শিল্পেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।








