দু’দিনের সফরে রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদী: পশ্চিমবঙ্গ দিবসে তারকেশ্বরে জনসভা, কলকাতায় যোগাভ্যাস

প্রধানমন্ত্রী মোদীর দু'দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফর: ২০ জুন তারকেশ্বরে 'পশ্চিমবঙ্গ দিবস' জনসভা, ২১ জুন কলকাতায় 'আন্তর্জাতিক যোগ দিবস' পালন। জানুন বিস্তারিত।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৪ জুন ২০২৬ঃ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দু’দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। আগামী ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উপলক্ষে হুগলির তারকেশ্বরে একটি জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। পরদিন, ২১ জুন ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস’ পালনে প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় উপস্থিত থাকবেন। রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০ জুন তারিখটিকেই এখন থেকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসাবে পালন করা হবে।

এই তারিখেই ১৯৪৭ সালে তৎকালীন প্রাদেশিক আইনসভায় বঙ্গের বিভাজন এবং পশ্চিমাংশের ভারতভুক্তির প্রস্তাব পাশ হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন, যা পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের পয়লা বৈশাখকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ ঘোষণার বিপরীত। বিজেপির দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ২০ জুনকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া। বিজেপি সূত্রের খবর, তারকেশ্বরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে।

১৯৪৭ সালের ৫ এপ্রিল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এই তারকেশ্বরেই প্রথমবার পৃথক পশ্চিমবঙ্গের দাবি তুলেছিলেন। স্থানীয় বিধায়ক সন্তু পান জানিয়েছেন, এটি শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্নপূরণের এক বৃত্ত সম্পূর্ণ হওয়ার মতো ঘটনা, কারণ এই প্রথম রাজ্যে তাঁর মতানুসারী সরকার গঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ‘ঐতিহাসিক বিজয়’-এর জন্য রাজ্যবাসীকে ‘ধন্যবাদ জ্ঞাপক’ কর্মসূচি হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এই মঞ্চ থেকে পশ্চিমবঙ্গের জন্য একগুচ্ছ নতুন প্রকল্পের ঘোষণাও হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে খবর।

২১ জুন ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী কলকাতা থেকে কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। প্রাথমিকভাবে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে এই আয়োজনের কথা ভাবা হলেও, স্থান সংকুলানের কথা মাথায় রেখে বিকল্প জায়গার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ২০ জুন তারকেশ্বরের কর্মসূচি সেরে রাতে কলকাতায় লোকভবনে থাকতে পারেন। এই দু’দিনের সফরকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে।