প্রসেনজিতের জন্মদিনে আবেগঘন চিঠি চিরঞ্জিতের

Share:

ব্যুরো নিউজ,৩০সেপ্টেম্বর ২০২৬:  প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিনে তাঁকে ঘিরে স্মৃতির পাতা খুললেন অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী।প্রসেনজিতের জন্মদিনে তাঁর খোলা চিঠি। ইন্ডাস্ট্রির ‘বুম্বা’ থেকে আজকের প্রসেনজিৎ—দীর্ঘ এই পথচলার নানা অধ্যায়ের সাক্ষী তিনি। জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তায় তাই উঠে এল সাফল্য, সংগ্রাম, ব্যক্তিগত ওঠাপড়া এবং দুই শিল্পীর দীর্ঘ বন্ধুত্বের গল্প।

চিরঞ্জিতের কথায়, আজকের তারকা প্রসেনজিৎ তাঁর কাছে এখনও সেই ছোট্ট ‘বুম্বা’, যাকে প্রথম দেখেছিলেন নাগেরবাজারে বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে। তখন চিরঞ্জিতের বয়স প্রায় কুড়ি। সদ্য লেখা তাঁর প্রথম চিত্রনাট্য ‘মানুষের নাম ঈশ্বর’ নিয়ে কাজ শুরু করার সময়ই বিশ্বজিতের পরিবারের সঙ্গে পরিচয়। ছোট্ট প্রসেনজিৎ ও পল্লবীর সঙ্গে সেই সময়ের সম্পর্কের স্মৃতিও এখনও তাঁর মনে উজ্জ্বল।

পরে ‘শত্রু’ ছবির সময় ফের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সেই ছবিতে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন প্রসেনজিৎ। চিরঞ্জিতের স্মৃতিতে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে একটি ঘটনা। বোলপুরে শুটিংয়ের সময় চিরঞ্জিতের অটোগ্রাফ নিতে স্কুলছাত্রীরা এসেছিল। কিন্তু কলমে কালি না থাকায় ছোট্ট বুম্বা পাঁচিল টপকে কলম আনতে ছুটে গিয়েছিল। সেই আন্তরিকতাই আজও মনে রেখেছেন চিরঞ্জিত।

তাঁর কথায়, ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ছিল, কিন্তু তা কখনও ব্যক্তিগত সম্পর্কে প্রভাব ফেলেনি। বরং দীর্ঘ সময়ে তাঁদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। প্রসেনজিতের অভিনয়জীবনের উত্থান, টিকে থাকার লড়াই এবং নিজেকে বারবার বদলে নেওয়ার প্রক্রিয়া খুব কাছ থেকে দেখেছেন চিরঞ্জিত।

প্রসেনজিতের পরিশ্রম ও শৃঙ্খলারও প্রশংসা করেছেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে চিরঞ্জিত জানান, অভিনেতা হিসেবে প্রসেনজিতের নিষ্ঠা এখনও একই রকম। এমনকি ভবিষ্যতে তাঁর লেখা একটি গল্পে প্রসেনজিৎ অভিনয় করলে নিজেই পরিচালনা করতে চান বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ব্যক্তি প্রসেনজিৎ নিয়েও চিরঞ্জিতের উপলব্ধি আলাদা। তাঁর মতে, অভিনেতার জীবনে নানা কঠিন সময় এসেছে। দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে বিচ্ছেদের পরের সময়টিও ছিল তেমনই এক অধ্যায়। সেই সময়ে ‘চন্দ্রগ্রহণ’ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন তাঁরা। চিরঞ্জিতের দাবি, সেই কঠিন সময় পেরিয়েই নতুন করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন প্রসেনজিৎ।

জন্মদিনে তাই প্রিয় ‘বুম্বা’র জন্য চিরঞ্জিতের একটাই কামনা—সাফল্যের এই দীর্ঘ ধারাবাহিকতা যেন আগামী দিনেও অটুট থাকে। তাঁর ভাষায়, ইন্ডাস্ট্রির ‘সিওও’ হিসেবেই সকলের প্রিয় হয়ে থাকুন প্রসেনজিৎ।