মতবিরোধ থাকলেও দলের দুর্দিনে পাশে, জেলবন্দি অসিতের খোঁজ নিতে থানায় রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়

মতবিরোধ সত্ত্বেও জেলবন্দি অসিত মজুমদারের পাশে দাঁড়ালেন চুঁচুড়ার সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের দুর্দিনে কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা দিলেন তিনি, যা রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয়।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১জুন ২০২৬ঃ ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন সত্ত্বেও দলের দুর্দিনে জেলবন্দি প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদারের পাশে দাঁড়ালেন চুঁচুড়ার তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার চুঁচুড়া থানায় গিয়ে অসিত মজুমদারের খোঁজ নেন তিনি। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই স্বীকার করে নিয়েছেন যে, প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনই মসৃণ ছিল না এবং তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। তবে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “দল যখন সমস্যায়, আমি তখন বিচার করব না, কে আমাকে কটূ কথা বলেছে।”

গত শনিবার সোনারপুরে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে চুঁচুড়ায় গ্রেপ্তার হন অসিত মজুমদার-সহ বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মী। বর্তমানে তাঁরা জেল হেফাজতে রয়েছেন। যখন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কর্মীদের পাশে না থাকার অভিযোগে বিদ্ধ হচ্ছেন, সেই আবহে রচনার এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট নজর কেড়েছে।

সাংসদ জানান, জেলে গিয়ে দেখা করার অনুমতি না থাকায় তিনি থানায় গিয়ে প্রবীণ এই তৃণমূল নেতার খোঁজ নিয়েছেন। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “আমি ওঁদের সঙ্গে আছি। আগামী দিনে যাতে ওঁরা বিপদে না পড়েন, সেটাও দেখার দায়িত্ব আমার।” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনাকেও তিনি তীব্র নিন্দা করেন। তাঁর কথায়, “অভিষেকের সঙ্গে যেটা হয়েছে, সেটা কখনওই মেনে নিতে পারব না। উনি একজন সাংসদ। সাংসদের উপরে এ রকম আক্রমণ কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

যদিও এই ঘটনায় ধৃত পাঁচ জনই সোমবার জামিন পেয়ে গিয়েছেন। দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও রচনা মন্তব্য করেন। অধিকাংশ বিধায়কের গরহাজিরার কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠক বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দিদি এখন প্রাক্তন হতে পারেন। কিন্তু উনি আমাদের নেত্রী। যখন ডাকবেন, নিশ্চয়ই যাব।” রচনার এই ভূমিকা দলের অন্দরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।