বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতই? আজ রায় হাইকোর্টের, শুরু বিধানসভার অধিবেশনও

বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কি? আজ হাইকোর্টের রায়। বিধানসভার অধিবেশন শুরুর দিনেই তৃণমূলের অন্দরের সংঘাতের নিষ্পত্তি হবে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৮ জুন ২০২৬ঃ বাংলার রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন আইনি লড়াইয়ের অবসান হতে চলেছে আজ। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে তৃণমূলের অন্দরের সংঘাতের জেরে কলকাতা হাইকোর্ট আজ চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবে।

বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ বেলা সাড়ে ১০টা নাগাদ এই রায় দেবেন। একই দিনে সকাল ১১টা থেকে রাজ্যপালের ভাষণের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে বিধানসভার অধিবেশনও। ফলে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, কারণ হাইকোর্টের রায়ের উপর নির্ভর করেই রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই স্পষ্ট হবে। বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন ঘিরে এই মামলা দানা বেঁধেছিল।

ঋতব্রত শিবির দাবি করছে, তাদের সমর্থনে বিধায়কের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েছে। প্রথমে ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষর-সহ প্রস্তাব বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। পরে ব্যক্তিগত চিঠির মাধ্যমে আরও সমর্থন আসায় বর্তমানে তাদের শক্তি ৬৫ জনে পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মহল ফ্লোর টেস্টের মাধ্যমে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ধারণাকে খারিজ করেছে, তাদের মতে এটি শুধুমাত্র সরকারে আস্থা বা অনাস্থা প্রমাণের জন্য প্রযোজ্য। বিরোধী দলনেতা কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলেরই।

গত শুনানিতে হাইকোর্ট বিধানসভার অধ্যক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। প্রথম চিঠি পাওয়ার পর কেন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, অথচ দ্বিতীয় চিঠির ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করা হয়েছিল, তা জানতে চান বিচারপতি। প্রথম চিঠির সত্যতা যাচাই এবং আবেদনকারীদের বক্তব্য শোনার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সই জালিয়াতির অভিযোগ এবং দলীয় বৈঠকের রেজলিউশন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। আদালত পর্যবেক্ষণ করে, শুধু অভিযোগ দায়ের হলেই জালিয়াতি প্রমাণিত হয় না।

এই সব নিয়ে বিস্তর জলঘোলার মধ্যেই আজ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে হাইকোর্ট। বিধানসভার অধিবেশন শুরু হওয়ার দিনেই এই গুরুত্বপূর্ণ রায় রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।