ব্যুরো নিউজ, ২২ মে ২০২৬ঃ দিল্লির বঙ্গভবনে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক সাক্ষাৎ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বঙ্গভবনে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ঠিক সেই সময়ই সেখানে উপস্থিত হন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দু’জনের মধ্যে সৌজন্যমূলক শুভেচ্ছা বিনিময় হয় এবং তাঁরা সংক্ষিপ্ত কিছু কথাও বলেন। এই অপ্রত্যাশিত মুখোমুখি হওয়া নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রাজ্যে পালাবদলের পর এবং তৃণমূলের অন্দরে ‘বিদ্রোহের’ সুর চড়ার আবহে প্রাক্তন শাসকদলের এক বিধায়কের সঙ্গে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে।
সাম্প্রতিক বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে যে কয়েকজন জয়ী বিধায়ক দলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অন্যতম। উলুবেড়িয়া থেকে বিধানসভা ভোটে লড়েছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর তৃণমূলে যোগ দেন ঋতব্রত। শিক্ষিত ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত তিনি একসময় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ‘ব্লু আইড বয়’ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। ২০১৪ সালে সিপিএম তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠালেও, এক যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হন। পরে তৃণমূলে যোগ দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ২০২৪ সালে ফের রাজ্যসভায় যান।
তাঁর এই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রাপথ এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল বাড়াচ্ছে। তাঁদের একান্ত কথোপকথনের বিষয়বস্তু নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো খবর মেলেনি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। এই সাক্ষাৎ কি নিছকই সৌজন্য বিনিময়, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ লুকিয়ে আছে, তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে।








