সিঙ্গুরে টাটা ফেরানোর বার্তা শমীকের, বাংলার শিল্পায়নে নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত

শমীক ভট্টাচার্যের বড় ঘোষণা: সিঙ্গুরে ফিরছে টাটা গোষ্ঠী। বাংলার শিল্পায়নে নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ফেরাতে বদ্ধপরিকর বিজেপি।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৩০ মে ২০২৬ :  রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদল হতেই ফের সিঙ্গুর আন্দোলন এবং টাটা গোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তনের জল্পনা তীব্র হয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সম্প্রতি এক বড় ঘোষণা করে জানিয়েছেন, টাটা শিল্পগোষ্ঠীকে সিঙ্গুরে ফিরিয়ে আনার জন্য গেরুয়া শিবির কোমর বেঁধে নেমেছে। বাম আমলে সিঙ্গুরে যে ন্যানো গাড়ি কারখানার স্বপ্ন অধরা থেকে গিয়েছিল, এবার তাকেই বাস্তব রূপ দিতে চাইছে বিজেপি।

শমীক ভট্টাচার্য এক সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “প্রায় দু’দশক আগে সিঙ্গুর থেকে ন্যানো প্রকল্প চলে যাওয়ার ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের কাছে পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল। আমরা চাই টাটারা আবার সিঙ্গুরে ফিরুক। এর মাধ্যমে দেশ ও বিশ্বের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে যে পশ্চিমবঙ্গ বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত এবং এখানে শিল্প স্থাপনের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে।” উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে ন্যানো প্রকল্পকে ঘিরে তৈরি হওয়া মহাবিতর্ক এবং টাটার কারখানা ভেঙে ফেলার ঘটনা বাংলার শিল্পবিরোধী মনোভাবের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেই আন্দোলন একসময় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতায় এনেছিল। তবে এখন বিজেপি সেই সিঙ্গুরকেই শিল্প ও কর্মসংস্থানের প্রত্যাবর্তনের প্রতীকে রূপান্তরিত করতে চাইছে। শমীক ভট্টাচার্য আরও জানান, “সিঙ্গুর আন্দোলন কর্পোরেট মহলের একাংশের মধ্যে এই ধারণা তৈরি করেছিল যে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের জন্য অনুকূল পরিবেশ নেই। বাংলায় টাটাকে আমরা ফেরাবই, এটা আমাদের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ।”

তিনি এও উল্লেখ করেন যে, রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উভয়েই বাংলার হারানো অর্থনৈতিক গৌরব ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। জমি অধিগ্রহণ নীতির পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শমীক, যা শিল্পায়নের জন্য অপরিহার্য। সরকার দ্রুত এই বিষয়ে কাজ করছে।