সিকিম ধস: তিস্তায় তলিয়ে যাওয়া গাড়ির ৪ যাত্রীর দেহ উদ্ধার, মৃত ৫ বছরের শিশুও

উত্তরবঙ্গে ধসের জেরে তিস্তায় তলিয়ে যাওয়া সিকিমের গাড়ির ৪ যাত্রীর দেহ উদ্ধার। মৃতদের মধ্যে ৫ বছরের শিশুও রয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় শোকের ছায়া।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৮ জুন ২০২৬ঃ উত্তরবঙ্গে লাগাতার বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি এলাকায় ফের বড়সড় বিপর্যয়। গত শুক্রবার ধসের মুখে পড়ে তিস্তা নদীতে তলিয়ে যাওয়া একটি গাড়ির চার যাত্রীর নিথর দেহ অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (NDRF) টানা দু’দিনের তল্লাশি অভিযানের পর রবিবার (৭ জুন, ২০২৬) দুপুরে তিস্তা নদী থেকে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়িটি টেনে তোলা হয়। উদ্ধার করা হয়েছে একই পরিবারের চারজন সদস্যের দেহ, যার মধ্যে রয়েছে মাত্র ৫ বছরের এক শিশুও। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা উত্তরবঙ্গ জুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতরা হলেন স্মারিকা নিওপানে (২৮), শৈব্যা নিওপানে (২৭), টিকা দাহাল (২৭) এবং ৫ বছরের শিশু দিত্যা ছেত্রী। তাঁরা প্রত্যেকেই সিকিমের গ্যাংটকের অন্তর্গত কাবি লাংচক এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। শিলিগুড়ির দিকে আসার পথে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন তাঁরা। ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার বিকেলে। উত্তরবঙ্গে গত কয়েকদিন ধরে চলা প্রবল বর্ষণের কারণে পাহাড়ি রাস্তায় ধস নেমেছিল। ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর, সেবকের করোনেশন সেতু এবং কালীঝোড়ার মধ্যবর্তী এলাকায় আচমকাই পাহাড় থেকে বিশাল ধস নামে। ঠিক সেই মুহূর্তেই সিকিমের ওই পরিবারটি গাড়ি করে শিলিগুড়ির দিকে আসছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, উপর থেকে হুড়মুড়িয়ে নেমে আসা পাথরের চাঁই সরাসরি গাড়িটিতে আঘাত করে। পাথরের ধাক্কায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি সটান খরস্রোতা তিস্তা নদীতে পড়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায়। দুর্ঘটনা খবর পাওয়ার পর থেকেই উদ্ধারকার্য শুরু হলেও নদীর তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বেগ পেতে হয়। অবশেষে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দু’দিন পর এই মর্মান্তিক পরিণতি সামনে এল। পাহাড়ি রাস্তায় বর্ষার মরসুমে যাত্রা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক হতে পারে, এই করুণ দুর্ঘটনাটি আরও একবার তা প্রমাণ করে দিল।