ব্যুরো নিউজ, ৯ আগস্ট ২০২৬: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নারী নির্যাতন সংক্রান্ত অপরাধ দমনে তাঁর সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে দিলেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আমি বিগত মুখ্যমন্ত্রীর মতো ছোট ঘটনা, প্রেমের গল্প, মেয়েটা তো অন্তঃসত্ত্বা ছিল, ১০ লাখ তো দেওয়া যেতেই পারে—এ ধরনের কথা বলায় বিশ্বাস করি না।”
শনিবার পানিহাটিতে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার দু’বছর পূর্তিতে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। শুভেন্দু অধিকারী জানান, নিহত চিকিৎসকের মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথের আর্জিতে সাড়া দিয়ে রাজ্য সরকার ১৯৫২ সালের ‘স্পেশাল কমিশন অ্যাক্ট’-এর অধীনে ওই ঘটনার পুনর্তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার বিচার সুনিশ্চিত করতে সরকার কোনও খামতি রাখবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রবিবার সকাল ১১টায় সমস্ত সরকারি হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দু’মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নারী ও শিশুদের উপর অপরাধ দমনে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে এবং পুলিশকে স্বাধীন ও কঠোর হাতে দমন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত ১৫ বছরে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড হওয়া সত্ত্বেও ঝুলে থাকা ১৮টি অপরাধমূলক মামলা চিহ্নিত করা হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে ৬ জন বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগ করা হয়েছে, যাতে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া সম্ভব হয়।
মাদকাসক্তিকে অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে মুখ্যমন্ত্রী ‘নেশামুক্ত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আপনারা দেখেছেন, বারুইপুরের ক্ষেত্রে পুলিশ যা করার তাই করেছে?” এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, পুলিশকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই কাজ করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, যা ‘বারুইপুর মডেল’ নামে পরিচিত। নিহত চিকিৎসকের পরিবারের অর্থ প্রত্যাখ্যান করে ন্যায়বিচারের জন্য লড়াইকেও তিনি কুর্নিশ জানান।








