ব্যুরো নিউজ, ২৪ জুলাই ২০২৬: শ্রাবণী মেলাকে কেন্দ্র করে তারকেশ্বরে তীব্র জনরোষের মুখে পড়লেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সন্তু পান। অহেতুক কড়াকড়ি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্থানীয় হকারদের বসতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলে শুক্রবার তারকেশ্বর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন সাধারণ মানুষ ও বিজেপিরই একাংশের নেতা-নেত্রীরা। সম্প্রতি তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলা জাতীয় মেলার মর্যাদা লাভ করেছে। এর পরই মেলায় নিরাপত্তার নামে অতিরিক্ত কড়াকড়ি শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ, ব্যারিকেডের কারণে জলযাত্রী ও স্থানীয়দের যাতায়াতে চরম অসুবিধা হচ্ছে। বিশেষ করে, শ্রাবণী মেলাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর বহু স্থানীয় মানুষ হকারি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁদের জোর করে তুলে দেওয়া হচ্ছে, যা তাঁদের রুটিরুজিতে সরাসরি আঘাত হানছে। এর ফলে এলাকার হাজার হাজার মানুষের পেটে লাথি মারা হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের। এই সমস্ত সিদ্ধান্তের জন্য সরাসরি বিধায়ক সন্তু পানকে দায়ী করছেন আন্দোলনকারীরা। আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সহ-সভাপতি গণেশ চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে বলেন, “যখন ভিড় নেই, তখন কেন অকারণে লকগেট ফেলে রাখা হচ্ছে? এতে মানুষের ভিড় অনর্থক বাড়ছে। পরে যখন গেট খোলা হচ্ছে, মানুষ হুড়োহুড়ি করে এগিয়ে যাচ্ছে, দোকানের মধ্যে গিয়ে পড়ছে। এতে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কাও থাকছে।”
তিনি আরও বলেন, বিধায়কের একতরফা সিদ্ধান্তে স্থানীয়দের জীবন-জীবিকা সংকটে পড়ছে এবং দলের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। দলেরই বিধায়কের বিরুদ্ধে দলের নেতা-নেত্রীদের এই প্রতিবাদ তারকেশ্বরের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে এই কড়াকড়ি শিথিল করে হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক এবং মেলায় আগত পুণ্যার্থী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো হোক। এই বিক্ষোভের জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল।








