ব্যুরো নিউজ, ২ জুন ২০২৬ঃ পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে ফের উত্তাপ। বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিভাজন স্পষ্ট। একদিকে যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধরনায় বসেছেন, ঠিক তখনই দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় জল্পনা তৈরি হয়েছে। বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা ঋজু দত্ত বিস্ফোরক দাবি করেছেন যে, দলের ৫০ জন বিধায়ক একটি হোটেলে গোপন বৈঠক করেছেন।
তাঁদের লক্ষ্য, দলের প্রতীক দখল করা এবং নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। ঋজু দত্তের দাবি অনুযায়ী, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা নামে দুই তৃণমূল বিধায়ক বিধানসভার অধ্যক্ষকে চিঠি লিখে অভিযোগ করেন যে তাঁদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এই ঘটনার পরই দল তাঁদের বহিষ্কার করে। ঋজু দত্ত জানিয়েছেন, এই দুই বিধায়কের নেতৃত্বে প্রায় ৫০ জন তৃণমূল বিধায়ক একত্রিত হয়ে হোটেলে বৈঠক করেছেন।
তাঁদের মূল দাবি তিনটি: প্রথমত, তাঁদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং তাঁরাই আসল তৃণমূল কংগ্রেস। দ্বিতীয়ত, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করা হোক, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে নয়। তৃতীয়ত, যেহেতু তাঁদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই দলের প্রতীক তাঁদেরই প্রাপ্য। এই ঘটনা শিবসেনার ভাঙনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ঘনিষ্ঠ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করলেও, বিদ্রোহী বিধায়করা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই পদে দেখতে চান। দলের অভ্যন্তরে এই টানাপোড়েন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে এবং তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।







