ব্যুরো নিউজ, ৪ জুন ২০২৬ : রাজ্য রাজনীতিতে ‘আসল তৃণমূল’ দাবি এবং সই-রাজনীতির টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন মোড়। হাওড়ার রাজনীতিতে তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ ইস্যুটি যখন পারদ চড়াচ্ছে, ঠিক তখনই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ফাটলের ইঙ্গিত স্পষ্ট। দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেবল ‘পথপ্রদর্শক’ হিসেবে মেনে নিতে তীব্র আপত্তি জানিয়ে ময়দানে নামলেন পাঁচলার তৃণমূল বিধায়ক গুলশান মল্লিক।
গুলশান মল্লিক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে কোনওরকম আপস করা হবে না। তাঁর সাফ কথা, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের নেত্রী। তাঁকে শুধু পথপ্রদর্শক বলা হবে, এটা আমরা কোনওভাবেই মানতে পারি না। যদি কেউ বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল পথপ্রদর্শক হবেন, আমরা তা কখনওই মেনে নেব না। তিনি আমাদের নেত্রী, এই অবস্থানেই আমরা ঐক্যবদ্ধ।” গুলশান জানান, হাওড়া জেলায় তাঁদের ৫-৬ জন বিধায়ক রয়েছেন, যাঁদের সঙ্গে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। অথচ এর আগে গত বুধবার বিধানসভার অন্দরে শক্তি প্রদর্শন করেছিলেন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের পক্ষে ৫৮ জন বিধায়ককে একজোট করে যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি। সেখানে অত্যন্ত দাপটের সঙ্গে ঋতব্রত দাবি করেছিলেন, বিধানসভার ভেতরে সংখ্যাধিক্যের জোরে তাঁরাই এখন ‘প্রকৃত তৃণমূল’। কিন্তু রাজনীতির চাকা ঘুরতে সময় লাগল না এক দিনও। বুধবারের নাটকীয় সাংবাদিক বৈঠকের ঠিক ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার রাজ্য রাজনীতিতে এক সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র সামনে এসেছে।
জানা যাচ্ছে, বুধবার যে সমস্ত বিধায়কেরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে দেওয়া চিঠিতে সই করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিধায়ক এখন সুর বদলাতে শুরু করেছেন। ঋতব্রত শিবিরের মায়া ত্যাগ করে তাঁরা পুনরায় ‘দিদির কাছে’ অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল স্রোতে ফিরে যাওয়ার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। ফলে একদিকে পাঁচলার বিধায়কের অনড় অবস্থান এবং অন্যদিকে বিদ্রোহী শিবিরের এই আকস্মিক প্রত্যাবর্তনের জল্পনা— সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতির এই হাইভোল্টেজ নাটকীয়তা প্রতি মুহূর্তে আরও জটিল হচ্ছে।








