ব্যুরো নিউজ, ৪ আগস্ট ২০২৬ঃ বীরভূমের বেআইনি পাথর ব্যবসার তদন্তে এবার বড় মোড়। টুলু মণ্ডল ওরফে নাজিবউদ্দিনের ম্যানেজার সীতেশ প্রামাণিকের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ডায়েরিকে ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই ডায়েরিতে বেআইনি ব্যবসার আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত খতিয়ান রয়েছে, যেখানে বহু সরকারি আধিকারিকের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। সোমবার টুলু মণ্ডলের ম্যানেজার সীতেশ প্রামাণিককে গ্রেপ্তার করে বীরভূম জেলা পুলিশ। আদালতে শুনানির সময় সরকারি পক্ষের বক্তব্যে ডায়েরির গুরুত্ব স্পষ্ট হয়। জানানো হয়, সীতেশ নিয়মিত ব্যবসার আয়-ব্যয়ের হিসাব এই নথিতে লিখে রাখতেন।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, ডায়েরিতে শুধুমাত্র ব্যবসার আর্থিক হিসাব নয়, বিভিন্ন সরকারি আধিকারিকের সঙ্গে কথিত আর্থিক লেনদেনেরও উল্লেখ রয়েছে, যেখানে ব্যবসার লাভের অংশ কার কার কাছে পৌঁছত, তারও নথিভুক্ত হিসাব রয়েছে। এছাড়াও, মহম্মদবাজারে টুলু মণ্ডলের একটি পার্কিং গ্রাউন্ডে অভিযান চালিয়ে নকল ডিসিআর (ডুপ্লিকেট চালান রিসিপ্ট) ছাপানোর যন্ত্রও উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মামলার কেস ডায়েরির সঙ্গে ওই নথির একাধিক পাতার জেরক্স কপিও আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। এই মামলার শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়কে বিশেষ সরকারি আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি আদালত চত্বরে বলেন, “ধৃত মিনার মণ্ডল এবং সদ্য ধৃত সীতেশ প্রামাণিককে জেরা করেই ছাপাখানা ও ডায়েরির সন্ধান মিলেছে। তদন্ত যত এগোবে, তত নতুন নতুন নাম সামনে আসতে পারে।” তদন্তকারীরা এখন ডায়েরিতে উল্লিখিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করছেন এবং গোটা চক্রের পরিধি খতিয়ে দেখছেন।








