ব্যুরো নিউজ, ৬ অক্টোবর ২০২৬: আর ক’দিন পরেই শুরু হতে চলেছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। শনিবার মহালয়ার সাথে সাথেই সিংহবাহিনী মা দুর্গার আগমন হবে এই ধরাধামে। কিন্তু কেন দেবী দুর্গার বাহন সিংহ, তার পেছনের পৌরাণিক কাহিনি অনেকেই জানেন না।
হিন্দুধর্ম অনুযায়ী, প্রায় সব দেব-দেবীরই নিজস্ব বাহন রয়েছে, যা তাঁদের আরাধনায় বিশেষ মাহাত্ম্য যোগ করে। মা দুর্গার ক্ষেত্রেও সিংহ কেবল একটি বাহন নয়, এটি তাঁর শক্তি, সাহস ও নেতৃত্বের প্রতীক। পুরাণ মতে, দেবী দুর্গার বাহন সিংহ হওয়ার পেছনে দুটি প্রধান কাহিনি প্রচলিত।
শিব পুরাণ অনুসারে, মহিষাসুরকে বধ করার আগে দেবতারা যখন দুর্গাকে নিজেদের অস্ত্র দান করছিলেন, তখন প্রজাপতি ব্রহ্মা দেবীকে সিংহ দান করেন। সিংহ প্রচণ্ড শক্তি, প্রবল রাগ, আক্রমণাত্মক মনোভাব এবং রাজকীয় আচরণের প্রতীক।
মহিষাসুর বধের সময় দেবীর রণহুংকারের সঙ্গে সিংহের এই গুণগুলি মিশে গিয়ে তাঁর রণসজ্জাকে পূর্ণতা দিয়েছিল। এই সিংহ আমাদের মনের সমস্ত পাপ ও অন্ধকার বিনাশের আহ্বান জানায়।
অন্য একটি কাহিনি অনুযায়ী, দেবী পার্বতী শিবকে স্বামী রূপে পেতে ১০০০ বছর ধরে তপস্যা করেছিলেন। এই কঠোর তপস্যার ফলে তিনি ক্ষীণকায়া হয়ে অন্ধকারে মিশে যান। বিয়ের পর শিব তাঁকে ‘কালী’ বলে সম্বোধন করলে অভিমানী পার্বতী কৈলাস ত্যাগ করে ফের তপস্যায় মগ্ন হন। সেই সময় এক ক্ষুধার্ত সিংহ দেবীকে শিকার করতে এলেও, তাঁর তপস্যা ভঙ্গের অপেক্ষায় চুপ করে বসে থাকে। বহু বছর কেটে যায়, সিংহটি নড়ে না। তপস্যা শেষে পার্বতী গৌরবর্ণা দুর্গা রূপে আবির্ভূতা হন এবং তাঁর শরীর থেকে কালো রঙের দেবী কৌশিকী নির্গত হন। দেবীর জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার পুরস্কার স্বরূপ, সেই সিংহকেই তিনি নিজের বাহন হিসেবে গ্রহণ করেন।
সিংহের শক্তি, সাহস ও নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা দেবীর মহিষাসুর বধের সংকল্পকে পূর্ণতা দেয় এবং নারীশক্তির জয়কে প্রতিষ্ঠা করে।








