প্লাস্টিক থেকে হিরে: জার্মান বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী আবিষ্কার, পরিবেশ দূষণ মোকাবিলায় নতুন দিশা?

প্লাস্টিক থেকে হিরে তৈরি করলেন জার্মান বিজ্ঞানীরা। লেজ়ার ব্যবহার করে পিইটি প্লাস্টিক থেকে ন্যানোডায়মন্ড তৈরি সম্ভব হয়েছে, যা পরিবেশ দূষণ কমাতে ও চিকিৎসায় কাজে লাগবে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২২ অক্টোবর ২০২৬: জার্মানির হেলমহোল্টজ-সেন্ট্রাম ড্রেসডেন-রসেনডর্ফ (HZDR) এবং রস্টক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা প্লাস্টিক থেকে হিরে তৈরির এক যুগান্তকারী পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন।

লেজার ব্যবহার করে পিইটি (PET) প্লাস্টিক থেকে ন্যানোডায়মন্ড তৈরি করে তাঁরা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এই আবিষ্কার শুধু বিজ্ঞানীদের কাছেই নয়, পরিবেশবিদদের কাছেও এক নতুন আশার আলো দেখিয়েছে।

গবেষকদের মূল লক্ষ্য ছিল পরিবেশ দূষণ কমানো এবং প্লাস্টিক বর্জ্যকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা। এই প্রক্রিয়ায় জলের বোতল তৈরিতে ব্যবহৃত পিইটি প্লাস্টিকের পাতলা স্তরের উপর শক্তিশালী লেজার রশ্মি ফেলা হয়। এর ফলে প্লাস্টিকের মধ্যে তীব্র চাপ ও তাপের সৃষ্টি হয়, যা একটি শক ওয়েভ তৈরি করে। এই শক ওয়েভের প্রভাবে প্লাস্টিকের কার্বন পরমাণুগুলির গঠনে পরিবর্তন আসে এবং সেগুলি ক্ষুদ্র ন্যানোডায়মন্ডে রূপান্তরিত হয়। প্রতিটি লেজার শটে প্রায় ১০ লক্ষ কোটি ন্যানোডায়মন্ড তৈরি হয়, যার গড় আকার মাত্র ৩ ন্যানোমিটার। যদিও এই ক্ষুদ্র হিরেগুলি সংগ্রহ করা বেশ চ্যালেঞ্জিং, বিজ্ঞানীরা বিশেষ জেলের সাহায্যে সেগুলি নিরাপদে সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন। এই ন্যানোডায়মন্ডগুলি অত্যন্ত শক্ত এবং উচ্চ তাপ সহ্য করতে সক্ষম।

ভবিষ্যতে এগুলি চিকিৎসা ক্ষেত্রে এমআরআই স্ক্যানে, কোয়ান্টাম সেন্সর তৈরিতে এবং অন্যান্য পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী। এই গবেষণা প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং পরিবেশ সুরক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।