ব্যুরো নিউজ, আলিপুরদুয়ার, ২৮ সেপ্টেম্বর: ফালাকাটা–সলসলাবাড়ি ৪১ কিলোমিটার চারলেন মহাসড়কের কাজ ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে এবার প্রকাশ্যে বিস্ফোরক দাবি করলেন আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক পরিতোষ দাস। তার দাবি, মহাসড়ক সংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে সরব না হওয়ার জন্য তাকে ৬০-৬৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। প্রকাশ্য সভায় বিধায়কের এই দাবি ঘিরে জেলাজুড়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
বিধায়কের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে ফোরলেন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে জমি ও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছিল। সম্প্রতি শালকুমারহাটে একটি সভায় তিনি দাবি করেন, এক ব্যক্তির মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের টাকা তোলার ক্ষেত্রে অনিয়মের চেষ্টা হয়েছিল। তার অভিযোগ, একটি পরিবারের ঘরের জন্য ১০-১২ লক্ষ টাকা পাওনা থাকলেও পরিবারের একাধিক সদস্য ও আত্মীয়ের নাম দেখিয়ে প্রায় ১ কোটি ১২ লক্ষ টাকা তোলার প্রস্তুতি হয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি পেমেন্ট বন্ধ করার উদ্যোগ নেন বলে দাবি করেন বিধায়ক।
এরপর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিতোষ দাসের। তার দাবি, সম্প্রতি তার বাড়িতে একজন প্রতিনিধি এসে তাকে ৬০-৬৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং বিষয়টি নিয়ে আর সরব না হওয়ার কথা বলা হয়।
তবে এই অভিযোগ স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা পক্ষের বক্তব্যও এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে বিধায়কের অভিযোগের পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
মহাসড়ক প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ বণ্টন নিয়ে অতীতে কোনও সরকারি তদন্ত, নির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা হয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল। বিধায়কের দাবি, বিষয়টি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়েও জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনে তদন্ত হতে পারে।
এখন প্রশ্ন, ৬৫ লক্ষ টাকার প্রস্তাবের অভিযোগের সত্যতা কতটা এবং মহাসড়ক প্রকল্প ঘিরে ওঠা অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়। বিধায়কের বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে আলিপুরদুয়ারে।








