ব্যুরো নিউজ, ১৬ই মে ২০২৬ঃ আফ্রিকার মাটিতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য পেল আমেরিকা। মার্কিন বাহিনী ও নাইজেরিয়া সেনার যৌথ অভিযানে নিহত হয়েছেন জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা আবু-বিলাল আল-মিনুকি। শনিবার এই খবর নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, মিনুকি আর সন্ত্রাস ছড়াতে পারবে না এবং এই অভিযানে সহযোগিতার জন্য নাইজেরিয়া সরকার ও সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানান।
মার্কিন প্রশাসন দাবি করেছে, দীর্ঘ গোয়েন্দা নজরদারির পর মিনুকির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর অত্যন্ত গোপনীয় ও জটিল পরিকল্পনার মাধ্যমে অভিযান চালানো হয়। ট্রাম্পের কথায়, এটি ছিল সময়সাপেক্ষ ও অত্যন্ত সূক্ষ্ম অপারেশন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় আমেরিকান দূতাবাস ও নাগরিকদের উপর হামলার একাধিক পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মিনুকি। তিনি আইএসের পশ্চিম আফ্রিকা শাখার সামরিক ও কৌশলগত কার্যকলাপ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। ২০২৩ সালে সোমালিয়ায় আইএস নেতা বিলাল আল সুদানির মৃত্যুর পর এটি আফ্রিকায় পেন্টাগনের অন্যতম বড় সাফল্য। নাইজেরিয়ার বর্নো প্রদেশে ১৯৮২ সালে জন্ম মিনুকির। মার্কিন বিদেশ দফতর ২০২৩ সালের জুন মাসে তাঁকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করেছিল। বর্তমানে নাইজেরিয়া ও লেক চাদ অববাহিকা অঞ্চলে সক্রিয় ‘আইএস ওয়েস্ট আফ্রিকা স্টেট’-এর প্রধান ছিলেন মিনুকি। এই গোষ্ঠীকেই আফ্রিকায় ইসলামিক স্টেটের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শাখা বলে মনে করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মিনুকির মৃত্যু আইএসের পশ্চিম আফ্রিকা শাখার জন্য বড় ধাক্কা হলেও জঙ্গি কার্যকলাপ পুরোপুরি থেমে যাবে না। তবে এই যৌথ অভিযান আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।








