পশ্চিম মেদিনীপুরে চাঞ্চল্য: দলীয় কার্যালয়ে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা লক্ষ্মী শীট

পশ্চিম মেদিনীপুরে দলীয় কার্যালয়ে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা লক্ষ্মী শীট। পুরনো মামলা ও বালি পাচার চক্রের যোগসূত্রে চাঞ্চল্য। রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৩০ মে ২০২৬ঃ পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় ব্লকের মকরাপুর অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি লক্ষ্মী শীটকে (লক্ষ্মীকান্ত শীট নামেও পরিচিত) একটি পুরনো ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, গত বছর এক মহিলাকে দলীয় কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল লক্ষ্মী শীটের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও, দীর্ঘ দিন ধরে তদন্ত এগোয়নি এবং অভিযুক্ত অধরা ছিলেন। স্থানীয় মহলেও এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি এলাকায় বেআইনি বালি পাচার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতেই লক্ষ্মী শীটের বিরুদ্ধে থাকা পুরনো মামলাগুলি নতুন করে পর্যালোচনা শুরু হয়। তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসার পর পুলিশ সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং অবশেষে তাকে হেফাজতে নেয়। জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, লক্ষ্মী শীটের বিরুদ্ধে মোট তিনটি পৃথক মামলা নথিভুক্ত আছে – একটি মারামারি, একটি ধর্ষণ এবং একটি পকসো আইনে দায়ের হওয়া মামলা। পুরনো ধর্ষণ মামলার তদন্তেই এমন কিছু তথ্য সামনে এসেছে, যা অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পক্ষে যথেষ্ট বলে মনে করা হয়েছে।

এই ঘটনার সঙ্গে মকরাপুর এলাকার আরেক প্রভাবশালী তৃণমূল নেত্রী কল্পনা শীটের নামও উঠে এসেছে, যিনি বালি পাচার সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। ফলে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে। বিরোধী দলগুলি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে, অভিযোগ করেছে যে রাজনৈতিক প্রভাবে এতদিন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়েছে, আইন আইনের পথেই চলবে এবং দল কোনও অভিযুক্তকে সমর্থন করবে না। এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই গ্রেফতারি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে এবং অনেকে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।